Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে সেনায় ঠেলেছে রাশিয়া! ইউক্রেনে বন্দি গুজরাতের পড়ুয়া, ফেরানোর আর্জি

মিথ্যে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে অভিযোগ গুজরাতের এক পড়ুয়ার। ইউক্রেনে বন্দি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে দেশে ফেরানোর আবেদন জানালেন তিনি।

মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে সেনায় ঠেলেছে রাশিয়া! ইউক্রেনে বন্দি গুজরাতের পড়ুয়া, ফেরানোর আর্জি

সাহিল মহম্মদ হুসেন

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 22 December 2025 07:37

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউক্রেনের মাটিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার সামনে ভাঙা গলায় আবেদন, “দয়া করে কেউ রাশিয়ার সেনায় যোগ দেবেন না।” গুজরাতের এক তরুণ ছাত্রের এই ভিডিও বার্তা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। নাম সাহিল মহম্মদ হুসেন (Sahil Mohammad Hussain)। ছাত্র ভিসায় পড়াশোনার জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই মিথ্যে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে তাঁকে জোর করে ঠেলে দেওয়া হয় রুশ সেনাবাহিনীতে (Russian Army)। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের (Ukraine) বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এখন বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

সাহিলের দাবি, পড়াশোনার পাশাপাশি রাশিয়ায় একটি কুরিয়ার সংস্থায় (Courier Firm) পার্টটাইম কাজ করতেন তিনি। সেই সময়ই রুশ পুলিশের (Russian Police) হাতে ধরা পড়েন। অভিযোগ, তাঁকে মিথ্যে মাদক মামলায় (Drug Case) ফাঁসানো হয়। শর্ত দেওয়া হয়- জেলে না যেতে চাইলে রুশ সেনায় যোগ দিতে হবে। বাধ্য হয়েই সেই চুক্তিতে সই করেন তিনি।

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের (Ukrainian Authorities) প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অলিভ সবুজ জ্যাকেট পরে সাহিল বলছেন, “আমি কোনও অপরাধ করিনি। শুধু পড়াশোনা করতে এসেছিলাম।” তাঁর অভিযোগ, অন্তত ৭০০ জনকে একইভাবে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে। ১৫ দিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণের পরই তাঁকে ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়। সাহিল জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে প্রথম কাজ হিসেবে তিনি ইউক্রেন সেনার (Ukrainian Army) কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

ভিডিও বার্তায় এই যুবক ভারত সরকার (Indian Government) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) কাছে তাঁকে দেশে ফেরানোর আর্জি জানান। বলেন, “সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) ভারতে গেছিলেন। অনুরোধ, আমার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তাঁর সঙ্গে কথা বলা হোক।”

সাহিলের মা গুজরাতে থাকেন। ইউক্রেন সেনা তাঁর মায়ের কাছেও ভিডিও পাঠিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার অনুরোধ করেছে। ছেলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে তিনি দিল্লির একটি আদালতে (Delhi Court) মামলা দায়ের করেছেন মহিলা। জানা গিয়েছে, সেই মামলার পরবর্তী শুনানি ফেব্রুয়ারিতে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri) সম্প্রতি জানান, রাশিয়ার সেনায় যুক্ত হয়ে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের (Indian Citizens) মুক্ত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথাবার্তায় তুলেছেন। বিদেশসচিবের স্পষ্ট বার্তা, রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কোনও প্রস্তাব থেকে ভারতীয়দের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) বক্তব্য, একাধিক ভারতীয় এইভাবে রাশিয়ায় আটকে পড়েছেন এবং দেশে ফেরার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন। তাঁদের পরিবারও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে কীভাবে তরুণদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে তা ফের প্রমাণ হল সাহিল হুসেনের ঘটনায়। ইউক্রেনের বন্দিদশা থেকে তাঁর শেষ বার্তা একটাই, “সাবধান থাকুন, ভুল প্রস্তাবে পা দেবেন না।”


```