কমিশনের এই খসড়া তালিকা শুক্রবার সন্ধেয় আন্দোলিত করে তুলেছে তামিল রাজনীতি। শাসক দল ডিএমকে-র অভিযোগ, এ হল দ্রাবড়ি রাজনীতিকে খতম করতে উত্তর ভারতের দল বিজেপির ষড়যন্ত্র।
.jpeg.webp)
এমকে স্ট্যালিন
শেষ আপডেট: 19 December 2025 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুক্রবার তামিলনাড়ুর খসড়া ভোটার তালিকা (Tamilnadu draft Electoral roll) প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। নতুন এই খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছে ৯৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম। নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্থানান্তর, মৃত্যু এবং একাধিক জায়গায় নাম নথিভুক্ত থাকার মতো নানা কারণে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। কমিশনের এই খসড়া তালিকা শুক্রবার সন্ধেয় আন্দোলিত করে তুলেছে তামিল রাজনীতি। শাসক দল ডিএমকে-র অভিযোগ, এ হল দ্রাবড়ি রাজনীতিকে খতম করতে উত্তর ভারতের দল বিজেপির ষড়যন্ত্র।
শতাংশের বিচারে বাংলার দ্বিগুণ নাম বাদ পড়ল
তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর আগে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। তার মধ্যে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ হিসাব মতো ৭.৫ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। কিন্তু তামিলনাড়ুতে ছবিটা আরও ইন্টারেস্টিং।
তামিলনাড়ুতে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের সময়ে ভোটার সংখ্যা ছিল ৬.২৩ কোটি। তার মধ্যে বাদ পড়েছে ৯৭ লক্ষ নাম। অর্থাৎ ১৫.৫৬ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ শতাংশের বিচারে বাংলার দ্বিগুণ হারে নাম বাদ পড়েছে তামিলনাড়ুতে।
গুজরাতেও বাংলার চেয়ে বেশি নাম বাদ পড়ল
গত লোকসভা ভোটের সময়ে গুজরাতে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ। এসআইআরের খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছে ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম। অর্থাৎ সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার ১৪.৭৪ শতাংশ। তাও বাংলার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে প্রায় ৬৬.৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি ২৬.৯ লক্ষ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ায় তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩.৯৮ লক্ষ ভোটারের নাম একাধিক স্থানে নথিভুক্ত থাকায় সেগুলিও বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ৮৪.৮১ শতাংশ অর্থাৎ ৫.৪৩ কোটিরও বেশি ভোটার ইতিমধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৬ কোটি ৪১ লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ৪৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ ফর্ম জমা দিয়ে SIR-এর প্রথম ধাপে ব্যাপক অংশগ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছে কমিশন।
এদিকে যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে বা নতুন করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা চলবে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই প্রকৃত ভোটাররা নিজেদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারবেন।
তামিলনাড়ুর পাশাপাশি শুক্রবার গুজরাতের খসড়া ভোটার তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭৩.৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গুজরাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ লক্ষের বেশি ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, প্রায় ৫১.৮৬ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন এবং প্রায় ৩.৮১ লক্ষ ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত থাকার কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, গোয়া, পুদুচেরি এবং লক্ষদ্বীপ-সহ একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। এবার তামিলনাড়ু ও গুজরাটে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।