গত এপ্রিল মাসে পহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান চালায়।

চিনের বিদেশমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 31 December 2025 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযানের পর ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতিতে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির ভূমিকা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি। এরপরও ট্রাম্প (Donald Trump) তাঁর দাবিতে অনড়, এমনকি সম্প্রতি তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপও জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের পর এবার বেজিংও দাবি করল, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনায় তারা 'মধ্যস্থতা' করেছে (China claims India Pakistan mediation)।
চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই বেজিংয়ে এক আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে বলেন, "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কখনও এত ঘন ঘন স্থানীয় যুদ্ধ ও সীমান্ত সংঘর্ষ দেখা যায়নি। এই অস্থিরতার সময় চিন নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি স্থাপনে কাজ করেছে।" তাঁর দাবি, 'সেই ধারাতেই চিন উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যু, প্যালেস্তাইন-ইজরায়েল, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতেও মধ্যস্থতা করেছে।'
ওয়াংয়ের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার তৈরি করেছে। কারণ, গত এপ্রিল মাসে পহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান চালায়। এরপর দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়ায় (India Pakistan conflict)। চারদিন টানা উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তান বিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়।
ভারত অবশ্য আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের কোনও মধ্যস্থতা নয় (India rejects third party role)। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) ভারতের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত করা হয়। সংসদেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, কোনও বিশ্বনেতা ভারতকে অভিযান থামাতে বলেননি। সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ভারতের নিজস্ব ছিল।
চিনের ভূমিকাকে ঘিরে প্রশ্ন
মে মাসে সংঘর্ষ চলাকালীন চিন প্রথমেই ভারতের সামরিক অভিযানকে 'দুঃখজনক' বলে মন্তব্য করেছিল। পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতি তাদের সামরিক সমর্থন এবং অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ভারতীয় সেনার ডেপুটি চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং অভিযোগ করেন, চিন এই উত্তেজনাকে 'লাইভ ল্যাব' হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানকে সহায়তা দিয়েছে। চিন অবশ্য এই অভিযোগের সরাসরি জবাব দিতে এড়িয়ে যায়।
ভারত-চিন সম্পর্কে ‘উন্নতির বার্তা’ দিল বেজিং
তবুও ওয়াং ই দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে ভারত–চিন সম্পর্ক (India China relations) ভালো গতিতে এগিয়েছে। তিনি বলেন, চিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তিয়েনজিনে SCO সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তারপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে।