সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, জঙ্গি কার্যকলাপের পথে টেনে আনার সময়সীমা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে কয়েক মাস সময় লাগত, এখন সেখানে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই কিশোর-কিশোরীরা চরমপন্থার জালে জড়িয়ে পড়ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 March 2026 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমের দেশগুলিতে (West Asia) জঙ্গি কার্যকলাপের (Terror Incidents) নতুন চেহারা সামনে আসছে। উদ্বেগজনকভাবে, এখন এই প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অল্প বয়সিদের মধ্যে। গ্লোবাল টেররিসম ইন্ডেক্স ২০২৬ (Global Terrorism Index 2026)-এর রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তের ৪২ শতাংশ ক্ষেত্রেই যুক্ত রয়েছে নাবালকরা (Youth Radicalisation)। মাত্র তিন বছরে এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, জঙ্গি কার্যকলাপের পথে টেনে আনার সময়সীমা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে কয়েক মাস সময় লাগত, এখন সেখানে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই কিশোর-কিশোরীরা চরমপন্থার জালে জড়িয়ে পড়ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিও, অ্যালগরিদমের প্রভাব এবং মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই এই দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নাবালকদের বড় অংশই আগে থেকেই মানসিক আঘাত বা অবহেলার শিকার। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ ক্ষেত্রে রয়েছে অবহেলা বা মানসিক নির্যাতনের ইতিহাস, আর ৭৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী কোনও না কোনও সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ফলে তারা সহজেই অনলাইন চরমপন্থী প্রচারের শিকার হচ্ছে।
এই প্রবণতার পিছনে কারণ অঞ্চলভেদে আলাদা। ইউরোপ ও আমেরিকায় একাকীত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং অনলাইন ‘ইকো চেম্বার’-এর প্রভাব বড় ভূমিকা নিচ্ছে। অন্যদিকে সাব-সাহারান আফ্রিকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার বা বেকারত্ব বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে একটি দিক স্পষ্ট - এই কিশোরদের বেশিরভাগই এখনও পেশাদার জঙ্গি নয়। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নাবালকদের যুক্ত থাকা ৯৭ শতাংশ হামলার পরিকল্পনাই আগেভাগে ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার অনেক কম।
তবুও বিপদ কিন্তু কম নয়। কারণ, এই প্রজন্মের বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে চরমপন্থার ভাবনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে তারা আরও সংগঠিত ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলেই আশঙ্কা।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ‘লোন উলফ’ বা একাই হামলা চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে পশ্চিমে হওয়া ৯৩ শতাংশ হামলাই একক হামলাকারীর কাজ। অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট কোনও মতাদর্শ নেই - জিহাদি চিন্তা, ডানপন্থী উগ্রতা, নারী বিদ্বেষ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, সব মিলিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্ত মতাদর্শ তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি শুধু বর্তমানের সংকট নয়, ভবিষ্যতের বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত। দ্রুত বদলে যাওয়া এই প্রবণতা সামাল দিতে প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন - কীভাবে সময়ের আগেই চিহ্নিত করা যাবে এই নতুন প্রজন্মের চরমপন্থাকে?