শুক্রবার ইরান বিশ্বজুড়ে বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা সম্প্রসারণের হুমকি দিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আরও যুদ্ধজাহাজ ও মেরিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানি মিসাইল নিক্ষেপ
শেষ আপডেট: 21 March 2026 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলকে তো বটেই বলতে গেলে গোটা বিশ্বকেই চমকে দিল ইরান। শুক্রবার গভীর রাতে তারা দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ (Missile Attack) করে।
ইরান (Iran War) থেকে ৪০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রবাল দ্বীপে আঘাত করার মত মিসাইল যে তেহরানের অস্ত্র ভান্ডারে ছিল তা জানা ছিল না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের। ইরানের সীমানার বাইরে এত লম্বা পথ অতিক্রম করে কোন মিসাইল আক্রমণের ঘটনা নেই।
ইরানের এই মিসাইল আক্রমণের পরেই যুদ্ধের অঙ্কও রাতারাতি বদলে গিয়েছে। ব্রিটেন (UK) ঘোষণা করেছে তারা আমেরিকাকে (US) তাদের সামরিক ঘাঁটি গুলি ব্যবহারের অনুমতি দেবে। ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US Preident Donald Trump) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে (UK PM Keir Starmer) অনুরোধ করে আসছিলেন তাদের সামরিক ঘাঁটি গুলি ব্যবহার করতে দিতে। কিন্তু ব্রিটেন কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। শুক্রবার রাতে ইরানের আগ্রাসী আক্রমণের পর মুহূর্তের মধ্যে ব্রিটেন সিদ্ধান্ত বদল করেছে।
ইরানের ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল দুটি দিয়েগো গার্সিয়ায় ঠিক কোন জায়গায় আঘাত করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে একটি মিসাইল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। অপরটি ওই দ্বীপে আঘাত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ইরানের ওই মিসাইল হামলা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি। তবে কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনায় বিস্মিত। ইরানের হাতে যে এত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত করার ক্ষেপণাস্ত্র আছে তা গোটা বিশ্বের অজানা ছিল।
দিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রবালদ্বীপ। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ষাটটি দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে বড় এটি, যা মূলত একটি সামরিক দ্বীপ। ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তির আগ পর্যন্ত দ্বীপটি মরিশাসের ব্রিটিশ কলোনির অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এই দ্বীপে। সেখানকার বাসিন্দারা সকলেই সামরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি। এর আগে ইরাক এবং আফগান যুদ্ধে আমেরিকা ও ব্রিটিশ বাহিনী এই ব্যবহার করেছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার জবাবে ইরান এই সপ্তাহে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে ইজরায়েল ইরানের বিশাল সাউথ পার্স উপকূলীয় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে বোমা হামলা চালানোর পর সাউথ পার্স হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্ল্যান্টকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ নিয়ে সুর নরম করতে বাধ্য করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার তিন সপ্তাহ পর, শুক্রবার ইরান বিশ্বজুড়ে বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা সম্প্রসারণের হুমকি দিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আরও যুদ্ধজাহাজ ও মেরিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এপি'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেখারচি সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশ্বজুড়ে 'পার্ক, বিনোদন এলাকা এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলি দেশটির শত্রুদের জন্য নিরাপদ থাকবে না। এই হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে তুলেছে যে, চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে তেহরান হয়তো মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও জঙ্গি হামলা চালানোর পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যেতে পারে ইরান।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি শুক্রবার একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে উদ্ধৃত হয়ে বলেন, ইজরায়েল ইরানের উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দাবি করা সত্ত্বেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, একটি বিমান হামলায় নাইনি নিহত হয়েছেন। এই সপ্তাহে ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর জন্য এটি ছিল ছিল পঞ্চম বড় আঘাত।