শুক্রবার বক্তব্যে মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট করে দিলেন, ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত “মিসাইল, ড্রোন বা যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়ের অনেক ঊর্ধ্বে”।

মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 20 March 2026 23:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদ ও নওরোজ - দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আবহে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সুর শোনা গেল মোজতবা খামেনেই-এর বার্তায় (Mojtaba Khamenei statement)। শুক্রবার তাঁর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত (Iran Israel conflict) “মিসাইল, ড্রোন বা যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়ের অনেক ঊর্ধ্বে”।
ইদ-উল-ফিতর ও নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় খামেনেই প্রথমেই নিহতদের পরিবারকে তিনি সমবেদনা জানান। বলেন, “সম্মানিত শহিদদের পরিবার ও বেঁচে থাকা সদস্যদের প্রতি আমি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানাই।” একইসঙ্গে তিনি দেশের “অদম্য প্রতিরোধ”-এর প্রশংসা করেন, যা তাঁর ভাষায় “বিশ্বের দম্ভ”-এর বিরুদ্ধে লড়াই।
একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি জানান, এ বছর আধ্যাত্মিক বসন্ত (ইদ) ও প্রকৃতির বসন্ত (নওরোজ) একসঙ্গে এসেছে। এই উপলক্ষে তিনি দেশের প্রতিটি মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসেন মোজতবা।
একটি পোস্টে ধর্মীয় ভাষায় তিনি প্রার্থনা করেন, “হে হৃদয় ও দৃষ্টির পরিবর্তনকারী, হে দিন-রাত্রির নিয়ন্তা, হে পরিস্থিতির রূপান্তরকারী, আমাদের অবস্থাকে সর্বোত্তম অবস্থায় পরিবর্তন কোরো।”
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে খামেনেই দাবি করেন, গত এক বছরে ইরানের মানুষ তিনটি বড় সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম সংঘাতটি ছিল গত বছরের জুনে - যখন “জায়নিস্ট শত্রু” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আলোচনার মধ্যেই প্রায় এক হাজার ইরানি নাগরিককে হত্যা করে। তিনি ইঙ্গিত করেন, ওই সংঘাত ১২ দিন চলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত “মধ্যস্থতার মাধ্যমে শত্রুপক্ষ লড়াই থামাতে বাধ্য হয়।”
যদিও তেহরানের দাবি, শেষবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা-ইজরায়েলই, এবং পরবর্তীতে আলোচনায় বসার পরেই ফের নতুন করে হামলা শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে।
খামেনেইর মতে, দ্বিতীয় “যুদ্ধ” ছিল চলতি বছরের জানুয়ারির বিক্ষোভ, যাকে তিনি সরাসরি “জানুয়ারি অভ্যুত্থান” বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, অর্থনৈতিক সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ভিতরে অশান্তি ছড়াতে “ভাড়াটে শক্তি” ব্যবহার করেছিল।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এইবারের পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ “প্রি-এম্পটিভ”, অর্থাৎ, আগে থেকেই সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর জন্য নেওয়া পদক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য, “আমরা পদক্ষেপ না নিলে ইরান আমাদের আক্রমণ করত।”
এই দাবির পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আমরা নীতির মানুষ। আলোচনা চলাকালীন ইরান কখনও আড়াল থেকে আক্রমণ করে না। তবে আঘাত এলে আমরা জোরালো জবাব দিই।” পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, ইরানের পরিকাঠামোয় হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আমাদের অবকাঠামোয় আঘাত এলে কোনও সংযম দেখানো হবে না।”
সব মিলিয়ে, ইদ ও নওরোজের শুভেচ্ছার আড়ালেও খামেনেইর বার্তায় স্পষ্ট, সংঘাত এখন আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, তা আদর্শ, প্রভাব ও ভূরাজনীতির এক বিস্তৃত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।