ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে প্রথমবার নিজের দেশবাসী তথা গোটা বিশ্বের উদ্দেশে বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনেই। বৃহস্পতিবার একটি রেকর্ডেড বিবৃতিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 12 March 2026 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সুপ্রিম লিডার (Iran new Supreme Leader) হিসেবে প্রথমবার নিজের দেশবাসী তথা গোটা বিশ্বের উদ্দেশে বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। বৃহস্পতিবার একটি রেকর্ডেড বিবৃতিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। একইসঙ্গে যে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিয়ে এত প্রশ্ন, আশঙ্কা, সেই বিষয়েও নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন।
ইরানের টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় মোজতাবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) সরাসরি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, 'আরবদুনিয়ার সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, নাহলে সেগুলি আক্রমণের মুখে পড়বে।'
হরমুজ প্রণালীকে ‘চাপের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের বার্তা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সম্পর্কেও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের নতুন নেতা। তিনি বলেন, প্রণালী বন্ধ করার ‘চাপ’ ইরানকে বজায় রাখতে হবে। এটি তেহরানের কৌশলগত শক্তির একটি বড় অংশ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়, ফলে আন্তর্জাতিক মহল তাঁর মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, তবে আছে শর্তও
ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে এনিয়ে সতর্কও করে দেন মোজতবা। তাঁর কথায়, যে কোনও দেশ যদি মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দেয়, তবে তারা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সাধারণ মানুষের মৃত্যুর প্রতিশোধ
ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল প্রায় ১১০ শিশু। এই ঘটনা উল্লেখ করে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডার বলেন, “ইরানিদের রক্তের বদলা নিতে আমরা দ্বিধা করব না।”
সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনেইর নির্বাচন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় (US-Israel Iran Conflict) নিহত হন ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই। প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি দেশের শাসনভার সামলেছিলেন। সেই ঘটনার কিছুদিন পর, ৮ মার্চ নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনেইর নাম।
নতুন নেতার ক্ষমতায় ওঠার পিছনে ইরানের শক্তিশালী সামরিক সংগঠনের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। এই বাহিনী ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম কেন্দ্র। তাদের সমর্থন পাওয়ার পরই মোজতবার ক্ষমতায় আসা অনেকটাই সহজ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মোজতবার নাম ঘোষণা করার আগে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছিল। বেশ কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন বলেও সূত্রের দাবি। সেই কারণেই নতুন নেতার নাম ঘোষণায় কিছুটা দেরি হয়।
ভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রয়াত নেতা আলি খামেনেই (Ayatolla Ali Khamenei) নিজেই নাকি তাঁর ছেলেকে উত্তরসূরি হিসেবে চাননি। এমনকি নিজের উইলেও মোজতবার নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
ইরানের বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত গবেষক খসরু ইসফাহানির দাবি, আলি খামেনেই তাঁর উইলে (Ali Khamenei Will) স্পষ্টভাবে লিখে গিয়েছিলেন যে মোজতবা যেন তাঁর উত্তরসূরি না হন। তাঁর বক্তব্য, বাবার প্রভাব ছাড়া মোজতবা খামেনেইর রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রায় ছিল না বললেই চলে।