প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সম্প্রতি মায়ামিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 21 March 2026 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া-ইরানকে ঘিরে গোয়েন্দা তথ্য (Iran Russia Deal) আদানপ্রদান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাশিয়া নাকি প্রস্তাব দিয়েছিল - যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে রাশিয়া (Ukraine Russia War) সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে মস্কোও ইরানের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ করবে। তবে এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সম্প্রতি মায়ামিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে এই প্রস্তাব আমেরিকা সরাসরি খারিজ করে দেয়।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই কিরিল দিমিত্রিয়েভ সোশ্যাল মিডিয়ায় একে ‘ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দেন। একই সুরে সরব হন রিপাবলিকান সাংসদ আন্না পলিনা লুনাও। তাঁর অভিযোগ, ওই সংবাদমাধ্যম ইউক্রেনপন্থী প্রচারের অংশ এবং এই ধরনের রিপোর্ট দিয়ে রাশিয়া-আমেরিকা সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এর আগেই মার্কিন এক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের (Middle East Conflict) প্রেক্ষিতে রাশিয়া ইরানকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য দিয়েছে। যার মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্যও ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও সেই অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করেছিল, যা ইউক্রেনে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।
এই আবহে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াও নজর কেড়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যদি রাশিয়া সত্যিই ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকে, তাহলে তা নিয়ে অসন্তুষ্ট হবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এই বিষয়ে রাশিয়াকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
যদিও ট্রাম্প নিজে এই ইস্যুকে কিছুটা হালকাভাবে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরান যদি কোনও তথ্য পেয়ে থাকে, তাতেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না। অন্যদিকে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মতে, এই বিষয়ে রাশিয়ার অস্বীকারকেই আপাতত গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আরব দুনিয়ার সংঘাত - এই তিনের জটিল সমীকরণে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এখন আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে।