ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, কাতারের সবচেয়ে বড় এলএনজি প্ল্যান্ট (LNG Plant) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা- সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা।

ইরানি তেলে ছাড়ের সম্ভাবনা!
শেষ আপডেট: 21 March 2026 08:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের (West Asia Tension) জেরে জ্বালানির দাম উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। ঠিক এই সময়েই ইরানের (Iran War) ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করার ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতেই ইরানি তেলের জাহাজগুলিকে (Iranian Oil Tanker) সাময়িকভাবে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে ভারতও আবার ইরানি তেল কেনার সুযোগ পেতে পারে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ভাবনা
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রে থাকা প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেলকে নিষেধাজ্ঞামুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এগুলোর বড় অংশই মূলত চিনের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু অনুমতি মিললে কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে ছাড়া যেতে পারে।
বেসেন্ট বলেন, “জলপথে থাকা ইরানি তেলকে (Iranian Oil) অনুমোদন দেওয়া হতে পারে… এতে প্রায় ১০–১৪ দিনের সমপরিমাণ জোগান বাজারে আসবে, যা দাম কমাতে সাহায্য করবে।” তাছাড়া, অতিরিক্ত চাপ কমাতে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকেও তেল ছাড়ার সম্ভাবনা আছে।
কেন এখন এই সিদ্ধান্ত?
ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, কাতারের সবচেয়ে বড় এলএনজি প্ল্যান্ট (LNG Plant) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা- সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ পণ্য যায় এই হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) হয়ে। সেই রুট কার্যত অচল হওয়ায় বড় জ্বালানির ঘাটতির সমস্যা তৈরি হয়েছে ভারতের মতো দেশগুলির জন্য।
ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের ৩৫–৪০ শতাংশ এই পথ দিয়ে আসে। ফলে কোনও বিঘ্ন সরাসরি জ্বালানি নিরাপত্তায় আঘাত হানে।
ভারতের জন্য কেন বড় সুযোগ?
২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে ভারত ইরানি তেল আমদানি বন্ধ করে দেয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে। এরপর ভারত রাশিয়া (Russsia) থেকে রেকর্ড পরিমাণ সস্তা তেল আমদানি বাড়িয়েছে, সংঘাত ছড়ানোর পর এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে বলে জানা গেছে।
কিন্তু এখন যদি ইরানি তেলের ওপর সাময়িক ছাড় মেলে, তাহলে ভারত খুব দ্রুতই পুরোনো জোগান ফিরিয়ে আনতে পারবে। কারণ,
তবে শর্তও কম নয়
ভারত ঠিক কতটা তেল আনতে পারবে তা নির্ভর করছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর,
ইরানি তেল কি রাশিয়া বা পশ্চিম এশিয়ার তেলের তুলনায় সস্তায় পাওয়া যাবে?
মার্কিন সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতও ইরানি তেলের বাজারে ফিরে আসার 'জানালা' খুলতে পারে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিষেধাজ্ঞার শর্ত এবং দাম কতটা প্রতিযোগিতামূলক থাকে তার ওপর।