আমেরিকা (United States) বা ভেনেজুয়েলা (Venezuela)–র নাম না করেই শি বলেন, প্রতিটি দেশের জনগণ যে উন্নয়নপথ স্বাধীনভাবে বেছে নেয় (independent development path), তা অন্য সব দেশের সম্মান করা উচিত।

মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছে কি না— তা নিয়ে আজ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আলোচনা হওয়ার কথা। ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব এখন “অস্থিরতা ও পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে”— এমনই মন্তব্য করেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Chinese President Xi Jinping)। তাঁর মতে, একতরফা সিদ্ধান্ত ও দাদাগিরিমূলক আচরণ (unilateral and bullying actions) আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে (international order under threat)। সোমবার একথা বলেছেন, কমিউনিস্ট চিনের প্রেসিডেন্ট।
আমেরিকা (United States) বা ভেনেজুয়েলা (Venezuela)–র নাম না করেই শি বলেন, প্রতিটি দেশের জনগণ যে উন্নয়নপথ স্বাধীনভাবে বেছে নেয় (independent development path), তা অন্য সব দেশের সম্মান করা উচিত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন (international law) এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা (UN Charter principles) মেনে চলার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়—বড় শক্তিগুলির (major powers) দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসা।
আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের (Irish Prime Minister Micheál Martin) সঙ্গে বৈঠকেই এই মন্তব্য করেন শি। চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র (China–Venezuela ties)। এর আগে বেজিং ওয়াশিংটনের কাছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Venezuelan President Nicolás Maduro) ও তাঁর স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছিল। পাশাপাশি, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বলপ্রয়োগকে (US use of force) স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা করেছিল চিন।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন অভিযানের বৈধতা নিয়ে আলোচনা হবে সোমবার
মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছে কি না— তা নিয়ে আজ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আলোচনা হওয়ার কথা। তবে কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত, এই সামরিক অভিযানের জন্য ওয়াশিংটনকে মিত্রদেশগুলির তরফে তীব্র চাপের মুখে পড়তে হবে না (US allies reaction)।
রাশিয়া (Russia), চিন (China) এবং ভেনেজুয়েলার অন্যান্য বন্ধুদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু মাদুরো-বিরোধী পশ্চিমী মিত্ররা (Western allies) সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রশ্নে তুলনামূলকভাবে নীরব। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (UN Secretary-General Antonio Guterres) এই অভিযানকে “বিপজ্জনক নজির” (dangerous precedent) বলে উল্লেখ করেছেন। বহু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞও (legal experts) মার্কিন পদক্ষেপকে অবৈধ বলে মনে করছেন। যদিও নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার ভেটো ক্ষমতার(US veto power) কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
ইউরোপের দেশগুলিও (European states) আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান জানিয়েছে, তবে ওয়াশিংটনের নাম সরাসরি উচ্চারণ এড়িয়ে গিয়েছে। যদিও ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো (French FM Jean-Noël Barrot) স্পষ্ট বলেন, শক্তি প্রয়োগ না করার যে নীতি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি (principle of non-use of force)—যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করেছে।
‘ভেনেজুয়েলা এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে’, দাবি ট্রাম্পের
এয়ার ফোর্স ওয়ানে (Air Force One) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই (US control of Venezuela)। যদিও ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodríguez) অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবুও ট্রাম্পের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল না। তাঁর দাবি, ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় (US interests in Venezuela) সহযোগিতা করবেন। কী সেই স্বার্থ— তা অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেননি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে ট্রাম্প বলেন, প্রথমে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তৈলক্ষেত্রগুলিকে (Venezuela oil sector) ‘সাজিয়ে তোলা’ হবে, তার পর দেশটিকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হবে (elections roadmap)। তবে সময়সীমা বা কৌশল— কোনওটাই পরিষ্কার করেননি তিনি।