ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ( Venezuelan President Nicolas Maduro) ‘অপহরণ’-এর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে (Latin America) আরও আক্রমণাত্মক চড়া সুরে নামলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (President Donald Trump)।
.jpeg.webp)
ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা—দু’দেশই গভীর সঙ্কটাপন্ন। এআই দিয়ে তৈরি করা ছবি।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ( Venezuelan President Nicolas Maduro) ‘অপহরণ’-এর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে (Latin America) আরও আক্রমণাত্মক চড়া সুরে নামলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (President Donald Trump)। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে (Colombian President Gustavo Petro) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কিউবা (Cuba) সরকারের ‘পতন আসন্ন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মেক্সিকোকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা—দু’দেশই গভীর সঙ্কটাপন্ন। বোগোতা সরকারকে তিনি আক্রমণ করে বলেন, সেখানে একজন উন্মাদ ক্ষমতায় আছেন, যিনি কোকেন তৈরি করে তা আমেরিকায় বিক্রি করেন। পেত্রো সম্পর্কে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আরও স্পষ্ট— ওটা আর বেশিদিন চলবে না। আমি আপনাদের আগেভাগেই জানিয়ে রাখছি।
এটা কলম্বিয়ায় মার্কিন অভিযানের ইঙ্গিত কিনা— এই প্রশ্নে তাঁর জবাব, এটা হতেও পারে। হলে ভালই হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি লাতিন আমেরিকার সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নইলে গোটা অঞ্চলকে চাকর ও দাসের মতো ব্যবহার করা হবে। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দীর্ঘ পোস্টে পেত্রো লেখেন, ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দক্ষিণ আমেরিকার রাজধানীতে বোমা ফেলেছে আমেরিকা। এই ক্ষত দীর্ঘদিন থাকবে। তবে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতির বিরোধিতাও করেন।
ভেনেজুয়েলা, কিউবা ও মেক্সিকোকে একসঙ্গে বার্তা
এই হুঁশিয়ারির সূত্রপাত ভেনেজুয়েলা থেকেই। শনিবার কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ২০২০ সালের মাদক-সন্ত্রাস সংক্রান্ত মামলায় বিচারের জন্যই এই অভিযান। তবে সমালোচকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভাণ্ডারের দখল নিতেই এই ‘সরকার উৎখাত’ পরিকল্পনা। ১৯৮৯ সালে পানামা আগ্রাসনের পর লাতিন আমেরিকায় এটিই সবচেয়ে বিতর্কিত মার্কিন আগ্রাসন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত আমেরিকার হাতেই, যদিও সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজকে নিযুক্ত করেছে। ভেনেজুয়েলা সঠিক পথে না করলে ফের সেনা পাঠানোর হুমকিও দেন তিনি। কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দ্বীপ রাষ্ট্রটি পতনের মুখে। ভেনেজুয়েলার তেল থেকে যে আয় হতো, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবার অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। মেক্সিকোকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, মাদক ঢুকছে মেক্সিকো হয়ে। যদিও প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমকে ট্রাম্প চমৎকার মানুষ বলেও উল্লেখ করেন এবং জানান, একাধিকবার সেখানে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
‘ডন-রো ডকট্রিন’ ও নতুন আধিপত্যবাদ
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী সরকারগুলিকে নিশানা করার বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। তাঁর লক্ষ্য—এই অঞ্চলকে আবারও মার্কিন প্রভাববলয়ের মধ্যে দৃঢ়ভাবে টেনে আনা। উনিশ শতকের মনরো ডকট্রিনকে একবিংশ শতকে নতুন মোড়কে ফিরিয়ে এনে ট্রাম্প নিজেই এর নাম দিয়েছেন—‘ডন-রো ডকট্রিন’। আসলে এটি হল— ১৮২৩ সালের প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো-র নামানুসারে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির উপর আধিপাত্যবাদের একটি বিধি। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকেই নিজের নামাঙ্কিত করে বদলে বলেন ডন-রো ডকট্রিন।