আমেরিকার (America) ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) হামলা ও সেদেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (President Nicolas Maduro) অপহরণ করে জেলবন্দি করার ঘটনায় রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া (North Korea)।

বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের যুগে।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার (America) ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) হামলা ও সেদেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (President Nicolas Maduro) অপহরণ করে জেলবন্দি করার ঘটনায় রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া (North Korea)। এবার আমেরিকাকে চাপে ফেলে দিতে হাইপারসনিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। দেশের সর্বময় নেতা কিম জং উন খোদ (Kim Jong Un) সেই পরীক্ষা তদারক করেছেন। বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের যুগে।
উত্তর কোরিয়া ভেনেজুয়েলার ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয় এবং বলেছে এতে আবারও আমেরিকার দুষ্কৃতকারী ও নিষ্ঠুর চরিত্র স্পষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সরকার উৎখাতের সম্ভাব্য চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার যুক্তি দেখিয়ে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তির চাবিকাঠিতে মেপে এসেছে।
ভেনেজুয়েলার ঘটনার পরপরই সোমবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উড়ান তদারকি করেছেন। সেদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকট ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাই এই পরীক্ষার মূল বার্তা।
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) সোমবার এই মহড়ার কথা নিশ্চিত করে। এর একদিন আগেই উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল। এই পরীক্ষা হল এমন এক সময়ে, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চীনের উদ্দেশে রওনা দেন। বেজিংয়ে তাঁর সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
কেসিএনএ জানায়, রবিবার হাইপারসনিক অস্ত্রব্যবস্থার মাধ্যমে চালানো এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল প্রস্তুতি যাচাই, ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন।
কিম জং উনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে কেসিএনএ জানায়, আজকের উৎক্ষেপণ মহড়ার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তিগত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে আক্রমণাত্মক অস্ত্রব্যবস্থা, ধারাবাহিকভাবে উন্নত করে যেতে হবে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্ব দিকের সাগরে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিম আরও বলেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকট ও নানা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা কিংবা আরও সম্প্রসারণ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।