ইরানে চলতি বিক্ষোভকে (Iran Protests) কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) দেওয়া ‘অবৈধ ও বেপরোয়া হুমকি’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান (Iran)।
.jpeg.webp)
ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে চলতি বিক্ষোভকে (Iran Protests) কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) দেওয়া ‘অবৈধ ও বেপরোয়া হুমকি’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান (Iran)। এ বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সভাপতিকে চিঠি দিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সইদ ইরাভানি। শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পের এক মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভে যদি আরও কোনও বিক্ষোভকারী নিহত হন, তবে আমেরিকা “লকড অ্যান্ড লোডেড”— অর্থাৎ সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চিঠিতে ইরাভানি ট্রাম্পের বক্তব্যকে “বেপরোয়া ও উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব মন্তব্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের “গুরুতর লঙ্ঘন”। তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের আহ্বান জানান, যেন তাঁরা এসব বক্তব্যের “স্পষ্ট ও দৃঢ় নিন্দা” জানান। ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া, উৎসাহিত করা কিংবা তাকে বৈধতা দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টা— যাকে অজুহাত করে বহিরাগত চাপ বা সামরিক হস্তক্ষেপ চালানো হয়— তা দেশের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) চিঠিটি পুরোপুরি প্রকাশ করেছে। এতে আরও বলা হয়, ইরান সরকার তার “সার্বভৌমত্ব রক্ষার সহজাত অধিকার” পুনর্ব্যক্ত করছে এবং প্রয়োজনে “নির্ধারিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে” সেই অধিকার প্রয়োগ করবে। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, “এই অবৈধ হুমকি এবং তার ফলে সৃষ্ট যে কোনও উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিণতির সম্পূর্ণ দায় আমেরিকাকে বহন করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, শুক্রবারও ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। কুম, মারভদাশত, ইয়াসুজ, মাশহাদ ও হামেদানে মানুষ রাস্তায় নামেন। তেহরানের তেহরানপার্স ও খাক সেফিদ এলাকাতেও বিক্ষোভ হয়। মূলত তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘট থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত রবিবার উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে রাজধানীর ব্যবসায়ীরা কাজ বন্ধ করলে দ্রুত তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এখন পর্যন্ত এই অস্থিরতায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন। এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হিংসাত্মক পদ্ধতিতে দমন করে কিংবা খুন করে, যা তাদের স্বভাবসিদ্ধ আচরণ”, তবে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে।” এর জবাবে ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের সচিব আলি লারিজানি বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ মানে “পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে”।
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট—ধসে পড়া মুদ্রা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যা—দীর্ঘদিনের খরার প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার শহর তেহরান একাধিক সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকার “দায় এড়াতে পারে না” এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগের বিক্ষোভগুলোর তুলনায় এবারের সরকারি প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নরম।