ইরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা শীর্ষ ধর্মনেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণবিদ্রোহ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের দিন।
.jpeg.webp)
আমেরিকার হাত রয়েছে বলে অনেক অর্থনীতিবিদেরই সন্দেহ।
শেষ আপডেট: 2 January 2026 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে ভয়ঙ্কর মুদ্রা-পতনের (Inflation) জেরে ইরান (Iran) জুড়ে চলা মোল্লাতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে উঠল। ইরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা শীর্ষ ধর্মনেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণবিদ্রোহ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের দিন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু প্রতিবাদীর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। জখম হয়েছেন আরও বহু।
নিউইয়ার (New Tear) ইরানে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা ইরান জুড়ে বিক্ষোভকারী পথে নেমে পড়েন। তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক স্লোগান মুখে মিছিল বের করে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই আন্দোলনের পিছনে অদৃশ্য হাত রয়েছে কিনা, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
কারণ, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মুখে রেজা পহলভির (Reza Pahlavi) সমর্থনে স্লোগান দিতে শোনা যায়। রেজা হলেন প্রয়াত শাহ মহম্মদ রেজা পহলভির ( Shah Mohammad Reza Pahlavi) ছেলে। যিনি একদা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম ঘনিষ্ঠ শাগরেদ ছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের সময় তাঁকে অপসারিত করে চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তগত করেন আয়াতুল্লা। তারপর থেকেই আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় ইরানের।
শাহ জিন্দাবাদ— স্লোগান শোনা যায় তেহরানের সর্বত্র। রেজা পহলভি বর্তমানে আমেরিকায় নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। জয় আমাদের নিশ্চিত। কারণ আমাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যতক্ষণ এই জমানা সিংহাসন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলতে থাকবে। আরও দুর্দশা নেমে আসতে চলেছে।
গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারকে প্রতিবাদীদের ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া’ শোনার পরামর্শ দেন। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানী তেহরানে (Tehran) ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। ফলে এই অবস্থায় দেশের মানুষের জীবন ও শান্তি রক্ষায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। এই মুহূর্তে ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে। যার পিছনে আমেরিকার হাত রয়েছে বলে অনেক অর্থনীতিবিদেরই সন্দেহ।
এর মূল কারণ, মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়ালের (IRR) মূল্য ৪২,১২৫.০০। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ। ৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দেশ ইরান আপাতত আর্থিক সঙ্কট ও শান্তিশৃঙ্খলা ভেঙে পড়া দশায় চলছে। যা মূলত মোল্লাতন্ত্রের অবসানে এককাট্টা হয়েছে। ইরান এমনিতেই তাদের পরমাণু কেন্দ্রের উপর ইজরায়েল-মার্কিন বাহিনীর হানাদারি ক্ষত মেরামত করে উঠতে পারেনি। তার মধ্যেই রিয়ালের দাম অস্বাভাবিক হারে পড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কট্টর শিয়া ধর্মগুরুর একগুঁয়েমিকে না মানতে পারা ঝুঁকি বলে ব্যাখ্যা করেছেন।