ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় গত দুদিন ধরে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে।

এই মুহূর্তে ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে।
শেষ আপডেট: 30 December 2025 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারকে প্রতিবাদীদের ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া’ শোনার পরামর্শ দিলেন। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় গত দুদিন ধরে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। ফলে এই অবস্থায় দেশের মানুষের জীবন ও শান্তি রক্ষায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। এই মুহূর্তে ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে। যার পিছনে আমেরিকার হাত রয়েছে বলে অনেক অর্থনীতিবিদেরই সন্দেহ।
গত দুদিন ধরে ইরানের তেহরান সহ প্রায় সব বড় শহরে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর কারণ মঙ্গলবারের দরে মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়ালের মূল্য ৪২,১২৫.০০। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে শিয়া মুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আয়াতুল্লা আলি খামেনেই তথা ইরানের শীর্ষ নেতা বড় বড় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন।
ইরানি-মার্কিন সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ এক এক্সবার্তায় লিখেছেন, ইরান থেকে পাওয়া বহু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তাঁদের মুখে স্লোগান, ‘মোল্লারা ইরান ছাড়ো’। ‘স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক’। এটা হল সেই সব মানুষের কণ্ঠস্বর, যাঁরা আর ইসলামি সাধারণতন্ত্র চান না।
৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দেশ ইরান আপাতত আর্থিক সঙ্কট ও শান্তিশৃঙ্খলা ভেঙে পড়া দশায় চলছে। যা মূলত মোল্লাতন্ত্রের অবসানে এককাট্টা হয়েছে। ইরান এমনিতেই তাদের পরমাণু কেন্দ্রের উপর ইজরায়েল-মার্কিন বাহিনীর হানাদারি ক্ষত মেরামত করে উঠতে পারেনি। তার মধ্যেই রিয়ালের দাম অস্বাভাবিক হারে পড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কট্টর শিয়া ধর্মগুরুর একগুঁয়েমিকে না মানতে পারা ঝুঁকি বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
গত রবিবার থেকে ইরানে তিন বছর পর বৃহৎ প্রতিবাদ চলছে। গত সোমবা তেহরান ও মাশহাদ শহরে প্রতিবাদীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়েছে। তেহরানের বড়া বাজারে স্লোগান ওঠে, আর ভয় নেই, আমরা জোট বেঁধে আছি।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান প্রতিবাদকারীদের উদ্বেগের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। দোকানদাররা এদিনও ব্যবসা বনধ করে রাখেন। প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মানুষের যুক্তিযুক্ত প্রতিবাদ ও তাঁদের দাবির কথা শুনতে। সমস্যা মেটাতে সরকার বদ্ধপরিকর। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সরকার আর্থিক কাঠামো ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় বদল ঘটাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।