ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Zelensky) পর্যন্ত ইঙ্গিত দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রেও এমন পদক্ষেপ করতে পারেন।

পুতিন, মাদুরো ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 10 January 2026 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন–রাশিয়া (US-Russia) সম্পর্কের ছবিটা যেন একটু পরিষ্কার হচ্ছে এখন। ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া অভূতপূর্ব অভিযানের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আচমকাই মার্কিন বাহিনীর অভিযানে কারাকাসে নিজের বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro)। গভীর রাতে চালানো সেই অভিযানে তাঁকে সরাসরি নিউ ইয়র্কের (New York) জেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়।
মাদুরোর গ্রেফতারের ধরন কার্যত ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিকেই সামনে এনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Zelensky) পর্যন্ত ইঙ্গিত দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রেও এমন পদক্ষেপ করতে পারেন। যদিও এই প্রসঙ্গে জেলেনস্কির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, পুতিনের বিরুদ্ধে তেমন কোনও অভিযানের প্রয়োজন নেই, যদিও তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় “ভীষণভাবে হতাশ”।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এমন আবহে বছরের শুরুতেই মাদুরোর গ্রেফতার ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলিকে সাহস জুগিয়েছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে ইউক্রেন, যারা ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার আক্রমণ সামলেও এখনও রাজধানী কিভ দখল হতে দেয়নি।
মাদুরো-পর্বের প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি নাম না করেই পুতিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “একজন স্বৈরশাসকের সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা হয়, তা হলে আমেরিকা জানে পরের পদক্ষেপ কী হতে পারে।” এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাফ জানান, পুতিনকে ধরার মতো কোনও অভিযানের প্রয়োজন তিনি দেখছেন না।
তেল ও গ্যাস শিল্পের শীর্ষ কর্তােদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। আমি খুব হতাশ। আটটা যুদ্ধ আমি মিটিয়েছি। ভেবেছিলাম এটা মাঝামাঝি কোনও একটা সমস্যা হবে, বা আরও সহজ হবে।”
ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, শুধু গত মাসেই ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অনেকেই রুশ সেনা। রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও মন্তব্য তাঁর।
এ দিকে মাদুরোর গ্রেফতারের নাটকীয় বিবরণও সামনে এসেছে। কারাকাসে গভীর রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হামলার পর শহরে নামে ডেল্টা ফোর্স। সেখান থেকেই মাদুরোকে গ্রেফতার করে প্রথমে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে, পরে ইউএসএস জিমা নামের যুদ্ধজাহাজে করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি। তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস তখন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
মাদুরোর গ্রেফতারের পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। পাশাপাশি, ভেনেজুয়েলার তেল রফতানির উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েমের প্রস্তুতিও শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন—এমনটাই সূত্রের খবর।
সব মিলিয়ে মাদুরো-কাণ্ডের জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তির নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।