ইরানের শীর্ষ সরকারি মহলের এক প্রভাবশালী নেতা ও শিয়া মতাদর্শ বিশেষজ্ঞ হাসান রহিমপুর আজঘাদি (Hassan Rahimpour Azghadi) হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ধরে আনার কথা ভাবা উচিত তেহরানের।
.jpeg.webp)
শিয়া মতাদর্শ বিশেষজ্ঞ হাসান রহিমপুর আজঘাদি (Hassan Rahimpour Azghadi) হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ধরে আনার কথা ভাবা উচিত তেহরানের। ছবি এআই দিয়ে তৈরি।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে চলতি বিক্ষোভ (Iran protests) ঘিরে এবার আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ইরানের শীর্ষ সরকারি মহলের এক প্রভাবশালী নেতা ও শিয়া মতাদর্শ বিশেষজ্ঞ হাসান রহিমপুর আজঘাদি (Hassan Rahimpour Azghadi) হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ধরে আনার কথা ভাবা উচিত তেহরানের। তাঁর দাবি, ইরানের বিক্ষোভে ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ উসকানির জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
শুক্রবার আজঘাদি বলেন, ট্রাম্প যেভাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (Nicolas Maduro) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই ট্রাম্পকে ‘মূল্য চোকাতে’ হবে। তাঁর আরও দাবি, আমেরিকার ভূখণ্ডের মধ্যেই ইরনের ‘ধ্বংসাত্মক অভিযান’ চালানো যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। যেমন কাজকারবার ইরানের ভিতরে চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল অব কালচারাল রেভেলিউশনের সদস্য আজঘাদি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে চান ট্রাম্পকে আটক করা হোক। মাদুরোকে যেভাবে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তেমন করে ট্রাম্পের শাসনকালে অথবা তার পরবর্তীতে হলেও আমেরিকার মাটি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে আসা হবে ইরানে। এবং বিচার হবে।
এই মন্তব্যের পরই পাল্টা কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে আমেরিকা। ইরান যেভাবে আন্দোলনকারীদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে, তাতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ আমেরিকা। ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এক্সবার্তায় বলেছেন, ইরানের সাহসী মানুষের সঙ্গে রয়েছে আমেরিকা এবং ওয়াশিংটন তাঁদের সমর্থন জানায়। উল্লেখ্য, শুক্রবারেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানি নেতৃত্ব বিরাট সঙ্কটে পড়তে চলেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদীদের খুন করা চলতে থাকলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। সেনা অভিযান চালাতেও পারে। আমেরিকার লেজুড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফেও ইরানে প্রতিবাদীদের হত্যা করার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। মার্কিন বিদেশ দফতর (US State Department) জানায়, ইরানে বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন (crackdown on protesters) নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে তেহরান সম্পূর্ণ সচেতন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি শাসকগোষ্ঠী যেন আমেরিকার মনোভাবকে খাটো করে না দেখে এবং তাদের পদক্ষেপের পরিণতি ভালো করে বিবেচনা করে।
এরই মধ্যে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভি (Reza Pahlavi) নতুন করে বিক্ষোভ জোরদার করার ডাক দিয়েছেন। শনিবার এক বার্তায় তিনি প্রতিবাদকারীদের আরও দু’দিন রাজপথে থাকতে এবং শহরের কেন্দ্রস্থল দখলের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি পরিবহণ, তেল-গ্যাস ও শক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের (energy sector strike) দেশজুড়ে ধর্মঘটে নামার ডাক দিয়েছেন।
পহলভি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের রাস্তায় নামা শাসকগোষ্ঠীর হুমকির উপযুক্ত জবাব। তাঁর মতে, এই বিপুল জনসমাগমে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি জানান, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, রাজপথ আঁকড়ে থাকতে হবে এবং অর্থনৈতিক চাপ (economic pressure) দু’টিকেই একসঙ্গে জোরদার করতে হবে। শাসকগোষ্ঠীর আর্থিক রসদ বন্ধ করা গেলে পুলিশি পীড়ন চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে ফের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে পহলভি বলেন, জাতীয় পতাকা ও প্রতীক হাতে নিয়ে রাজধানী পুনর্দখল করতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— লক্ষ্য এখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি দখলে রেখে আন্দোলনকে দীর্ঘস্থায়ী করা। এজন্য একাধিক পথ ধরে তেহরানের এগনো, বিভিন্ন জমায়েতকে একত্র করা এবং আগে থেকেই প্রয়োজনীয় রসদের ব্যবস্থা করার ডাক দেন তিনি। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সেই সমস্ত কর্মীদেরও এই কাজে ডাক দিয়েছেন, যাঁরা বিরোধীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। পহলভির কথায়, শাসকগোষ্ঠীর ‘দমনযন্ত্র’ সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়াই এখন লক্ষ্য।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, নির্বাসিত যুবরাজ জানান, তিনি ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এক ‘জাতীয় বিপ্লবের’ বিজয়ের মুহূর্ত দ্রুত এগিয়ে আসছে, আর সেই সময়ে তিনি ইরানের জনগণের পাশেই দাঁড়াতে চান।