ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, “তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বিরতি দেওয়া হবে। আমেরিকায় যাঁরা দেশের সম্পদ নন, দেশের প্রতি অনুগতও নন— তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 28 November 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসের (White House) অদূরে এক আফগান শরণার্থীর গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড জওয়ানের এক জনের মৃত্যু— এই ঘটনার পর মার্কিন অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড’ (Third World) বলে পরিচিত দেশগুলি থেকে আমেরিকায় (USA) অভিবাসন স্থায়ী ভাবে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে তাঁর প্রশাসন।
ট্রাম্পের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ অভিবাসনের কারণে মার্কিন স্বরাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাই ‘‘ব্যবস্থা পুনর্গঠনে’’ কড়া সিদ্ধান্ত অপরিহার্য।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, “তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বিরতি দেওয়া হবে। আমেরিকায় যাঁরা দেশের সম্পদ নন, দেশের প্রতি অনুগতও নন— তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে।”
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
অবৈধভাবে দেশে ঢোকা লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাড়ানো হবে
‘নন-সিটিজেন’-দের সমস্ত কেন্দ্রীয় সুবিধা বন্ধ করা হবে
যাঁরা মার্কিন সমাজের জন্য ঝুঁকি বা বোঝা, তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে
ট্রাম্পের নিশানায় ১৯টি দেশ
হোয়াইট হাউসের গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত আফগান নাগরিকের পর, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত ১৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতর (USCIS)। তালিকায় রয়েছে— আফগানিস্তান, মায়ানমার, বুরুন্ডি, চাদ, কঙ্গো, কিউবা, ইকোয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন।
এই তালিকাই গত জুনে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে হুবহু মেলে। আফগানিস্তান থেকে সমস্ত অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াকরণও ইতিমধ্যেই স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও মার্কিন সমাজে যে অস্থিরতা দেখা যায়নি, আজ তা অভিবাসী বোঝার কারণেই তৈরি হয়েছে।’’ তাঁর মতে, “এই পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান রিভার্স মাইগ্রেশন— দেশ থেকে জনসংখ্যা হ্রাস ছাড়া উপায় নেই।” ওই আফগান শরণার্থীর হামলাকে তিনি বলেছেন “জঘন্য সন্ত্রাসী আক্রমণ”, এবং সে কারণেই অভিবাসন নীতি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
‘থার্ড ওয়ার্ল্ড’ শব্দটি মূলত একটি বিস্তৃত ও অস্পষ্ট পরিভাষা— আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ওশেনিয়ার বহু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশকে এই ট্যাগে ফেলা হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই শব্দ ব্যবহার নিয়ে বরাবরই বিতর্ক রয়েছে।
তবে তা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, “আমেরিকার নিরাপত্তা ও পশ্চিমী সভ্যতার মূল্যবোধ রক্ষায় কঠোর অভিবাসন নীতিই একমাত্র পথ।”