Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

নীল কাত্যাল, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আইনজীবীর কাছেই সুপ্রিম কোর্টে 'হেরেছেন' ট্রাম্প

৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্ট করেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হলেও তা দিয়ে কর বা শুল্ক আরোপের অধিকার মেলে না। সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের।

নীল কাত্যাল, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আইনজীবীর কাছেই সুপ্রিম কোর্টে 'হেরেছেন' ট্রাম্প

নীল কাত্যাল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 21 February 2026 08:42

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্ক বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Court)। আর সেই রায়ের মুখ হয়ে উঠলেন ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, প্রখ্যাত আইনজীবী নীল কাত্যাল (Neal Katyal)।

প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সলিসিটার জেনারেল কাত্যাল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল। তাঁর যুক্তি ছিল, এই শুল্ক অন্যায্য ও অসাংবিধানিক কর ছাড়া আর কিছু নয়।

৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্ট করেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হলেও তা দিয়ে কর বা শুল্ক আরোপের অধিকার মেলে না। সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের।

রায়ের পর কাত্যাল বলেন, “আজ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী হতে পারেন, কিন্তু সংবিধান তার চেয়েও শক্তিশালী। আমেরিকায় কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের।”

এই মামলা দায়ের করেছিল ছোট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি, যাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল ‘লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার’। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপকে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে দাবি করেছিল। বাণিজ্য ঘাটতি ও ফেন্টানিল-সংকটকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

কাত্যাল এই রায়কে সংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “এটি কোনও এক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন।”

কে এই আইনজীবী

শিকাগোয় জন্ম নেওয়া কাত্যালের বাবা ছিলেন চিকিৎসক, মা উকিল - দুজনেই ভারতীয় অভিবাসী। ডার্টমাউথ কলেজ ও ইয়েল ল’ স্কুলের প্রাক্তনী তিনি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।

২০১০ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে তিনি ভারপ্রাপ্ত সলিসিটার জেনারেল নিযুক্ত হন। সুপ্রিম কোর্টে ৫০টিরও বেশি মামলায় সওয়াল করে সংখ্যালঘু আইনজীবীদের মধ্যে রেকর্ড গড়েছেন। বর্তমানে মিলব্যাঙ্ক এলএলপি-র অংশীদার এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকেন্দ্রের অধ্যাপক তিনি।

এর আগে ভোটাধিকার আইন রক্ষার মামলা, ২০১৭ সালের ট্রাভেল ব্যান চ্যালেঞ্জ করা, পরিবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সফল সওয়াল করেছেন কাত্যাল। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর লেখা বই Impeach: The Case Against Donald Trump - এক সময় আলোচনায় আসে।

মার্কিন বিচার দফতরের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘এডমন্ড র্যান্ডলফ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত কাত্যালকে ২০১৭ ও ২০২৩ সালে ‘লিটিগেটর অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে দ্য আমেরিকান লইয়ার। ফোর্বস সাম্প্রতিক তালিকায় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইনজীবীদের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টদের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে একতরফা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে কাত্যাল বলেন, “সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষও সংবিধান ভাঙতে পারেন না - এটাই আমেরিকার বিশেষত্ব।”


```