জানা যাচ্ছে, ইজরায়েল অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিশেষত লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ‘স্ট্যান্ড-অফ’ অস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে সম্মত হয়েছে। অতীতে যে মাত্রায় প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়নি, এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটার ইঙ্গিত মিলছে।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 21 February 2026 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) দু'দিনের ইজরায়েল সফরের (Israel Tour) ঠিক আগে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত (India Israel Defence Deal)। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই সফরে নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি (MoU) সই হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, পৃথক কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা কম বলেই সূত্রের খবর।
দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পরিসরে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। দিল্লি ও তেল আভিভ - দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি কিছু জানাচ্ছে না। তবে জানা যাচ্ছে, ইজরায়েল অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিশেষত লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ‘স্ট্যান্ড-অফ’ অস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে সম্মত হয়েছে। অতীতে যে মাত্রায় প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়নি, এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটার ইঙ্গিত মিলছে।
ভারত ‘মিশন সুদর্শন’-এর অধীনে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চায়। দেশের অভ্যন্তরভাগকে দূরপাল্লার শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষিত রাখাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। ইজরায়েল এই ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী দেশ। তাদের দীর্ঘপাল্লার ‘অ্যারো’, মধ্যপাল্লার ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং স্বল্পপাল্লার ‘আয়রন ডোম’ ইতিমধ্যেই কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। গত জুনে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রতিহত করার দাবি করেছে তেল আভিভ।
এছাড়া ভারত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘লোইটারিং অ্যামিউনিশন’ কেনার দিকেও এগোচ্ছে, যা আকাশ, স্থল ও সমুদ্র - তিন দিক থেকেই শত্রু দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা যায়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারত র্যাম্পেজ, পাম ৪০০, হারপি ও হারপ কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি।
এই পর্বে ভারত স্পাইস ১০০০ গ্লাইড বোমা, র্যাম্পেজ এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল, এয়ার লোরা এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং দীর্ঘপাল্লার আইস ব্রেকার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দিকে নজর রাখছে। পাশাপাশি নৌবাহিনী যুদ্ধজাহাজ সুরক্ষায় বর্ধিত পাল্লার বারাক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থাও কেনার কথা ভাবছে।
মোদী ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশ একই সুরে কথা বলে। সফরকালে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং উচ্চক্ষমতার কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, এই সফর ভারত–ইজরায়েল সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলেই কূটনৈতিক মহলের অভিমত।