এর আগেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্প ব্যবহার করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ঘাঁটিও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

শেষ আপডেট: 20 February 2026 23:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা (Middle East crisis) ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই বড় ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Donald Trump Iran military strike)।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলতে পারি, বিষয়টি বিবেচনা করছি।” যদিও সম্ভাব্য হামলার প্রকৃতি বা সময় নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল জায়গায় (global politics) পৌঁছেছে।
উত্তেজনার কেন্দ্রে পারমাণবিক কর্মসূচি
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি (nuclear deal Iran) ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
ইসলামি দুনিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। এর আগে জেনেভায় হওয়া বৈঠকে কিছুটা আলোচনা এগোলেও কোনও কার্যকর সমাধান মেলেনি।
আলোচনায় অচলাবস্থা
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিয়াভিট জানিয়েছেন, আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি হলেও মূল ইস্যুগুলিতে দুই পক্ষ এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে ফের আলোচনায় ফিরতে হবে। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনোই তেহরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামরিক বিকল্পও টেবিলে
এর আগেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্প ব্যবহার করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ঘাঁটিও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক (Donald Tusk) তাঁর দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে এবং হঠাৎ করেই উদ্ধার-সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি
অন্যদিকে, ইরানও সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে লাইভ-ফায়ার মহড়া চালিয়েছে তারা। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী ও অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক সমাধান অনিশ্চিত থাকায় আরব দুনিয়া আবারও এক অস্থির ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট।