ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সরাসরি সতর্ক করলেন ট্রাম্প—চুক্তি না করলে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি। ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা।

খামেনেই- ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 19 February 2026 21:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran) সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ‘অর্থবহ’ চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে” বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কূটনীতির দরজা খোলা থাকলেও তা অনির্দিষ্টকাল খোলা থাকবে না।
ট্রাম্পের কথায়, “ইরানের সঙ্গে ভালো আলোচনা চলছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দেখা গেছে, অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। চুক্তি হতেই হবে—নইলে খারাপ কিছু ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে “শান্তির পথে আসার” আহ্বান জানান।
এই সব সাত সতেরো কড়া বার্তার মধ্যেই সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় চলছে আমেরিকা-ইরানের পরোক্ষ আলোচনা। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ ও জারেড কুশনার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকির সঙ্গে কথা বলছেন। লক্ষ্য—বাড়তে থাকা পরমাণু অচলাবস্থা ঠেকানো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুত কমানোর দাবিতে অনড়। তাদের যুক্তি, এই কর্মসূচি বিস্তার রোধের জন্য বড় ঝুঁকি। পাল্টা তেহরানের দাবি, তারা পরমাণু অস্ত্র চায় না; শক্তি ও গবেষণার জন্যই এই কর্মসূচি। সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি তারা সার্বভৌম অধিকারের পরিপন্থী বলেই মানছে না।
এদিকে আলোচনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক তৎপরতা। সূত্রের খবর, এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৬ সহ ৫০টির বেশি উন্নত যুদ্ধবিমান, নৌবহর ও এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। প্রশাসনের বক্তব্য, এটি ‘ডিটারেন্স’—মিত্রদের আশ্বস্ত করা ও বাহিনী সুরক্ষার জন্য। জবাবে ইরানও সামরিক মহড়া ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে—পরমাণু স্থাপনায় হামলা হলে প্রতিশোধ নেবে।
আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, “আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির দিকনির্দেশ স্পষ্ট হবে।” ফলে কূটনীতি বনাম সংঘাত—কোন পথে এগোবে আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক, সে দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।