ট্রাম্প আগেও সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। সূত্রের খবর, সামরিক হামলার বিকল্পও তিনি বিবেচনায় রাখছেন। এই অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 February 2026 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি সপ্তাহেই ওমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা (Iran US nuclear talks Oman) ফের শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Khamenei)-কে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, খামেনেইয়ের “খুবই চিন্তিত থাকা উচিত” (Trump warning Khamenei)।
বুধবার NBC News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প (Donald Trump)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, খামেনেই কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? জবাবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “হ্যাঁ, তাঁর হওয়া উচিত।” এর বেশি বিস্তারিত তিনি জানাননি, শুধু বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে।”
এদিকে এক মার্কিন আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, শুক্রবার ওমানের মাসকটে আমেরিকা–ইরান বৈঠক হবে, আয়োজক দেশ ওমান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।
চাপ, সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনীতির প্রত্যাবর্তন
এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক প্রেক্ষাপটে শুরু হচ্ছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন, সামরিক অবস্থান জোরদার করা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষার ব্যবহার - সবই বেড়েছে।
বুধবারই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) জানান, আমেরিকা আলোচনায় বসতে রাজি, কিন্তু সেই আলোচনা কেবল ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।
রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, “তারা বৈঠক ও আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। ওরা মত বদলালেও আমাদের আপত্তি নেই।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও অর্থবহ চুক্তি করতে হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন, পরমাণু কার্যকলাপ এবং নিজেদের দেশের মানুষের সঙ্গে আচরণ - সবই আলোচনার আওতায় আনতে হবে।
ইরান বারবার এই শর্ত খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, আলোচনা কেবল পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই হবে। এর বাইরে কোনও শর্ত চাপানো মানে সেটা তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ।
সামরিক তৎপরতা, বাড়ছে ঝুঁকি
ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার আগেই আমেরিকা ইরানের উপকূলের কাছে বড়সড় সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দেয়, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনও রয়েছে। ইরানের ভিতরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ।
ট্রাম্প আগেও সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। সূত্রের খবর, সামরিক হামলার বিকল্পও তিনি বিবেচনায় রাখছেন। এই অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরান তাদের অর্থনীতিকে স্বস্তি দিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খুঁজছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিলেও, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনও রকম লাগাম টানার প্রস্তাব তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
শুক্রবার মাসকটে আলোচকরা যখন টেবিলে বসবেন, তখন বোঝা যাবে, শুধু ‘রেড লাইন’ নয়, স্নায়ুযুদ্ধের পরীক্ষাও চলছে দু’পক্ষের মধ্যে - যার প্রভাব কিন্তু আলোচনা কক্ষের বাইরেও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।