ট্রাম্পের একদিনের সুর বদল! ইরানের বিক্ষোভ, হাজার হাজার মৃত্যু আর খামেনেইকে সরাসরি নিশানা—মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন সংকটের ইঙ্গিত?

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 18 January 2026 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে (Ayatollah Khamenei) লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছেন। শনিবার একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বললেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের ইতি টানার সময় এসেছে এবং এটি মূলত হিংসা ও দমননীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
খামেনেইকে ‘অসুস্থ মানুষ’ বলেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানের নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই আজ দেশটি বসবাসের জন্য বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট জায়গায় পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, নেতৃত্ব মানে সম্মান অর্জন করা, ভয় দেখানো বা মৃত্যুর রাজনীতি নয়। তিনি দাবি করেন, আমেরিকার মতো করেই ইরানের উচিত দেশ পরিচালনা করা এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা না করে সুশাসনের পথে হাঁটা।
গত কয়েক দিন ধরে ইরানে চলা সরকার-বিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসি দেওয়া হলে আমেরিকা সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য হবে। তবে পরিস্থিতিতে সাময়িক বদল আসে দু’দিন আগে, যখন ইরান সরকার ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি রদ করে। এর পরেই কিছুটা সুর নরম করে ট্রাম্প বলেন, ‘৮০০ মানুষকে ফাঁসি না দিয়ে খামেনেই জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সরব হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। তিনি চলমান বিক্ষোভকে ‘আমেরিকার ষড়যন্ত্র’ এবং ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাই না। কিন্তু দেশের ভিতরের বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেব না।’ এই বিশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি ট্রাম্পকেই দায়ী করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও ইরান সরকার এই পরিসংখ্যান মানতে নারাজ এবং গোটা পরিস্থিতিকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই আবহে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাসিত ইরানি রাজপুত্র রেজা পাহলভি। ট্রাম্পের উপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প তাঁর কথা রাখবেন এবং শেষ পর্যন্ত ইরানি জনগণের পাশেই দাঁড়াবেন।’ পাহলভির দাবি, তিনি ইরানে ফিরে এসে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান।