গ্রিনল্যান্ড কিনতে ডেনমার্কের উপর চাপ বাড়াতে ইউরোপের ৮টি দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 18 January 2026 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের অবস্থানে একচুলও নড়লেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ডেনমার্কের (Denmark) অধীন এই দ্বীপটি কিনতে আগ্রহী আমেরিকা, কিন্তু ডেনমার্ক স্পষ্টভাবে সেই প্রস্তাবে ‘না’ বলেছে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এ বার সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ তৈরির পথে হাঁটলেন। শনিবার ঘোষণা করলেন, ইউরোপের আটটি দেশের উপর চড়া শুল্ক (Europe Tariff) আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড থেকে আমেরিকায় আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। এখানেই থামেননি তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া বার্তায় হুঁশিয়ারির সুরে ট্রাম্প বলেছেন, ১ জুন থেকে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের যুক্তিও নতুন নয়। তাঁর দাবি, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও চিন এই দ্বীপের দিকে নজর রাখছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ডেনমার্ক একা এই দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। আমেরিকার আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হলে গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দখলেই থাকা জরুরি।
এই প্রসঙ্গে ব্যঙ্গের সুরেও কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড রক্ষার জন্য মাত্র দু’টো কুকুরে টানা স্লেজ রয়েছে।’ তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করার ক্ষমতা একমাত্র আমেরিকারই আছে।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলির দিকেও আঙুল তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে আমেরিকা ইউরোপকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করে এসেছে। তাই এখন ডেনমার্কের উচিত গ্রিনল্যান্ড ছেড়ে দিয়ে আমেরিকার পাশে দাঁড়ানো। স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যত দিন না গ্রিনল্যান্ড কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে, তত দিন এই শুল্ক বহাল থাকবে।’
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক সেই প্রস্তাব নাকচ করেছে। এ বার সেই দ্বীপ হাতাতে সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।