বিমানটি খুঁজে বের করতে সেনা ও উদ্ধার সংস্থাগুলি অভিযান শুরু করেছে। তল্লাশিতে যুক্ত করা হয়েছে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্থলবাহিনীকে।

ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ বিমান
শেষ আপডেট: 17 January 2026 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ সুলাওয়েসির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কাছে এসে হঠাৎই উধাও হয়ে যায় একটি আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমান (Indonesia regional passenger aircraft missing)। ঘটনার সময় বিমানে মোট ১১ জন ছিলেন- আটজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী। বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া সরকার (Indonesia Govt) বড়সড় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। কী কারণে এমন হল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার বিমানটি ইয়োগাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানীর দিকে যাচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের (Indonesia Air Transport) পরিচালিত টার্বোপ্রপ ATR 42-500 বিমানটিকে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে শেষবার ট্র্যাক করা গেছিল। লেয়াং–লায়াং এলাকার আকাশে থাকা অবস্থায় বিমানটির র্যাডার সংকেত হারিয়ে যায়। এই এলাকা মারোস জেলার পাহাড়ি অঞ্চল, বুলুসারাউং ন্যাশনাল পার্কের (Bulusaraung National Park) কাছেই।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রকের মুখপাত্র এন্দাহ পুরনামা সারি (Endah Purnama Sari) জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে ল্যান্ডিংয়ের জন্য রুট ঠিক করতে বলেছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ দেওয়ার পরই হঠাৎ রেডিও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বিমানের জন্য জরুরি ‘ডিস্ট্রেস ফেজ’ ঘোষণা করা হয়।
বিমানটি খুঁজে বের করতে সেনা ও উদ্ধার সংস্থাগুলি অভিযান শুরু করেছে। তল্লাশিতে যুক্ত করা হয়েছে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্থলবাহিনীকে। তবে পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তল্লাশি অভিযান কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, মাউন্ট বুলুসারাউং–এ কয়েকজন ট্রেকার কিছু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ এবং ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট–এর একটি লোগো (Logo resembling Indonesia Air Transport markings) দেখতে পাওয়া গেছে বলে জানান। দক্ষিণ সুলাওয়েসি সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওয়োকো জানিয়েছেন, এই তথ্য উদ্ধারকারী দলকে দেওয়া হয়েছে। তারা যাচাই করতে দল ঘটনাস্থলে গেছে। অনুমান করা হচ্ছে, সেখানেই বিমানটি ভেঙে পড়েছে।
বিমানের তিন যাত্রীই ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও মৎস্য মন্ত্রকের কর্মকর্তা। বিমানটির সুলতান হাসানুদ্দিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল। ল্যান্ডিংয়ের আগেই রুট থেকে সরে গিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে যায় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া তখন তুলনামূলক স্থিতিশীলই ছিল, আকাশে কিছু মেঘ থাকলেও দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ৮ কিলোমিটার। তবুও পাহাড়ি এলাকায় খাড়া ঢাল ও ঘন বনভূমির কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দল যত দ্রুত সম্ভব সন্দেহভাজন স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মিনিটই এখন গুরুত্বপূর্ণ।