বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন, যদিও একইসঙ্গে আমেরিকা আরও একটি যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় উপকূলে পাঠিয়েছে।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপের নীতিই বজায় রাখছে আমেরিকা (US maximum pressure on Iran)। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন। একইসঙ্গে একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে আমেরিকাকে পাশে পেতে চাপ দিচ্ছেন ইজরায়েলের কর্তারা (Israel US joint action on Iran)।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার এড়াতে চান। তবে তেহরানের তরফে পাল্টা হুঁশিয়ারি, যে কোনও হামলার জবাব সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে, এবং তা কেবল প্রতীকী প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না (US Iran tension)।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ৮ ও ৯ জানুয়ারি চরমে ওঠে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু হলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি অবশ্য জোর দিচ্ছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে, যা পশ্চিমী দেশগুলির মতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই এগোচ্ছে।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে”। তিনি আরও জানান, সোমবার উপসাগরীয় উপকূলে প্রবেশ করা মার্কিন নৌবাহিনীর স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে “প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম”।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আবারও বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন, যদিও একইসঙ্গে আমেরিকা আরও একটি যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় উপকূলে পাঠিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি অভিযানের পর আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে, ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ আক্রমিনিয়া বলেন, আমেরিকার যে কোনও পদক্ষেপের জবাব ‘সীমাবদ্ধ’ থাকবে না। গত বছরের জুনে ইজরায়েলের স্বল্পস্থায়ী বিমান অভিযানে মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সামান্য সময়ের জন্য যুক্ত হয়েছিল, এবারের প্রতিক্রিয়া তার থেকে আলাদা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর দাবি, জবাব হবে ‘সিদ্ধান্তমূলক’ এবং ‘তৎক্ষণাৎ’।
আইআরজিসি-কে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক বৃহৎ বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেন, “নিজের মানুষের প্রতিবাদ রক্তে দমন করে যে শাসন, তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলাই যথাযথ।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত “অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল”।
২৭ দেশের এই জোট ২১টি রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও ইরানি আধিকারিকের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি জব্দের সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিভিন্ন প্রদেশের আইআরজিসি কমান্ডাররা।
এর জবাবে ইরান সতর্ক করেছে, এই পদক্ষেপের “বিধ্বংসী পরিণতি” হতে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে “আর একটি বড় কৌশলগত ভুল” বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত বছর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর দাবিতে ইউরোপীয় শক্তিগুলি সক্রিয় হয়েছিল বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপকে “অযৌক্তিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিদ্বেষপ্রসূত” বলে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইঙ্গিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক চাপ, সামরিক প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা - সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বললেও, মাটিতে যে উত্তাপ বাড়ছে, তা স্পষ্ট।