ফের মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকা (US Iran Tension)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পাল্টা কড়া বার্তা দিল তেহরান।

এশীয় বাজারে বৃহস্পতিবার তেলের দাম ১.৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব রাজনীতিতে আবার নতুন একটা যুদ্ধের ঢাক পেটানো চলছে উপসাগরীয় এলাকায়। ফের মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকা (US Iran Tension)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পাল্টা কড়া বার্তা দিল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী (Armed Forces) যে কোনও মার্কিন হামলার (US attack) বিরুদ্ধে “দ্রুত ও শক্তিশালী” জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বুধবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি লেখেন, আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত। আমাদের ভূমি (land), আকাশ (air) ও সমুদ্রে (sea) যে কোনও হামলার (aggression) বিরুদ্ধে দ্রুত এবং জোরালো প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
এশীয় বাজারে বৃহস্পতিবার তেলের দাম ১.৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। টানা তৃতীয় দিনের এই ঊর্ধ্বগতির কারণ, আরব দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক দেশ ইরানের উপর আমেরিকা সেনা অভিযান চালাতে পারে। এমন আশঙ্কার ফলে ওই অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ভয় তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ৯৯ সেন্ট বা ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৬৯.৩৯ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ১.০৬ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি হয়েছে ৬৪.২৭ ডলার। দুই ধরনের তেলই সোমবার থেকে মোটামুটি ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং বর্তমানে গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, গত বছরের জুনে ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত তথাকথিত “১২ দিনের যুদ্ধ” (12-Day War) থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে তেহরান। ওই সংঘাতে ইজরায়েলের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে (nuclear sites) হামলা চালিয়েছিল। আরাঘচির কথায়, ওই যুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে আরও দ্রুত, আরও গভীর ও আরও শক্তিশালীভাবে কীভাবে জবাব দিতে হয়। অর্থাৎ, ইরানের সামরিক কৌশল (military strategy) এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী ও প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় আমেরিকা সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে কোনও মার্কিন হামলা হলে তা আগের সব হামলার তুলনায় “অনেক বেশি ভয়াবহ” হবে।
এর জবাবে ইরান পাল্টা হুমকি দেয়। তেহরান জানায়, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে তারা জবাবি হামলা চালাবে।
ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, সম্ভাব্য সব ধরনের “শত্রু” মোকাবিলার জন্য তাদের জরুরি কৌশল প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে—“বন্দুকের ঘোড়ায় আঙুল রেখে” তারা যে কোনও হামলার বিরুদ্ধে “দ্রুত ও জোরাল” জবাব দিতে প্রস্তুত।
ইরানের এই কড়া প্রতিক্রিয়ার কারণ, ট্রাম্পের নতুন হুমকি। নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) ট্রাম্প লেখেন, “একটি বিশাল নৌবহর (massive Armada) ইরানের দিকে যাচ্ছে। প্রয়োজনে তারা হামলা করতেও তৈরি। একই সঙ্গে ট্রাম্প আলোচনার দরজাও খোলা রাখেন। তাঁর বক্তব্য, ইরান যেন দ্রুত আলোচনায় (negotiate) বসে এবং একটি “যুক্তিযুক্ত চুক্তি” (fair deal) করে। যার শর্তটিও ট্রাম্পই ঠিক করে দিয়েছেন, কোনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও মজুত রাখতে পারবে না ইরান (NO NUCLEAR WEAPONS)। ট্রাম্পের ভাষায়, সময় ফুরিয়ে আসছে। আমি আগেও বলেছি— MAKE A DEAL!
হুমকির পাশাপাশি কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছে তেহরান। রাষ্ট্রসঙ্ঘে (United Nations) ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, পারস্পরিক সম্মান (mutual respect) ও স্বার্থের ভিত্তিতে কথা বলার জন্য ইরান প্রস্তুত। তবে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে, চাপ দিলে ইরান নিজেকে রক্ষা করবে এবং এমনভাবে জবাব দেবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এই উত্তেজনার মধ্যেই আরাঘচি আরব দুনিয়ার (Middle East) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে।
ইরান–আমেরিকা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক এই বাগযুদ্ধ বিশ্বকে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কায় (global war fear) ঠেলে দিয়েছে। বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট ও লোহিত সাগরের উত্তেজনায় (Red Sea tensions) আন্তর্জাতিক রাজনীতি ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের বাজারে (oil market), নিরাপত্তায় (global security) এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। একদিকে আলোচনার আহ্বান, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি— এই দ্বন্দ্বই এখন উপসাগরীয় এলাকার নির্মম বাস্তব।