জনতার স্রোত কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে মহারাষ্ট্রের সবথেকে বেশি সময় ধরে উপমুখ্যমন্ত্রী থাকা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের মরদেহবাহী গাড়ি।

নীরবতার বুক চিরে ভেসে উঠছে স্লোগান, “অজিত পাওয়ার জিন্দাবাদ”।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চভূতে বিলীন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বৃহস্পতিবার বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পাওয়ারের নশ্বর দেহে পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম করলেন তাঁর দুই ছেলে পার্থ ও জয়। তারপরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের সামনে এবং কাকা শারদ পাওয়ার ও তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের উপস্থিতিতে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করেন অজিত-পুত্ররা।
তার কিছুক্ষণ আগেই এনসিপি প্রধান ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পৌঁছে যায়। বারামতীর আকাশে-বাতাসে শুধু অজিতদাদা অমর রহে স্লোগান। তার মধ্য দিয়েই রাস্তার দুপাশে জনতার স্রোত কাটিয়ে এগিয়ে চলেে মহারাষ্ট্রের সবথেকে বেশি সময় ধরে উপমুখ্যমন্ত্রী থাকা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের মরদেহবাহী গাড়ি। জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিন— নীরবতার বুক চিরে ভেসে ওঠে স্লোগান, “অজিত পাওয়ার জিন্দাবাদ”। চোখের জলে ভারী আকাশের নীচে, শেষ বিদায়ের পথে চলে গেলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার।
অতিবিপুল ভিড় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষযাত্রার রুট বদলাতে হয়। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শোভাযাত্রা আর বারামতী শহরের ভিতর দিয়ে যাবে না। দেহ সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বারামতীতে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন। বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বেলা সওয়া ১১টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য।
অন্যদিকে, বুধবার সকালে লিয়ারজেট-৪৫ বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ আরও চার জনের মৃত্যু মহারাষ্ট্রকে হঠাৎ স্তব্ধ করে দেয়। উদ্ধার হয়েছে বিমানের ব্ল্যাক বক্স। তদন্ত চলছে, কিন্তু প্রশ্নের ভিড়ে আজ উত্তর নেই, আছে শুধু শূন্যতা।
বিদায়বেলায় উপস্থিত রয়েছেন স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার ও দুই পুত্র পার্থ ও জয়। চোখে জল নিয়ে তাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। মাঠে এসে পৌঁছে গিয়েছেন মহারাষ্ট্রের একদা 'স্ট্রংম্যান' শারদ পাওয়ার। ভাইপোর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ এক প্রবীণ রাজনীতিকের মুখে যেন জমাট বেদনা। কারণ তিনিই যে হাতে করে গড়েপিঠে অজিতকে রাজনীতির ময়দানে চাঙ্গা ঘোড়া করে তুলেছিলেন। এনসিপি (শারদ পাওয়ার) নেত্রী তথা অজিত পাওয়ারের খুড়তুতো বোন সুপ্রিয়া সুলে, ছগন ভুজবল, রাজ ঠাকরে, অমিত ঠাকরে, জিতেন্দ্র দুদি, প্রতাপ পাওয়ারসহ রাজ্য-রাজনীতির বহু শীর্ষ মুখ উপস্থিত রয়েছেন শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে।
জনতার ভিড়ে কেউ কেউ নীরবে কাঁদছেন, কেউ ফুল ছুঁড়ে দেন কফিনে— একজন জনপ্রতিনিধির জীবনের শেষ অধ্যায় যেন জনতার হৃদয়ে লেখা হয়ে রইল। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য হল। রাজনীতির উত্থান-পতনের ভিড়েও অজিত পাওয়ার ছিলেন তীব্র ব্যক্তিত্ব, প্রভাবশালী সংগঠক। তাঁর আকস্মিক প্রস্থান রাজ্যের রাজনীতিতে রেখে গেল এক শূন্যতা— যার প্রতিধ্বনি আজ বারামতীর আকাশে, মানুষের রুদ্ধ কণ্ঠে, চোখের জলে। মহারাষ্ট্র আজ শুধু এক নেতাকে নয়, হারাল নিজের ইতিহাসের একটি অধ্যায়।