এই মেসেজের কয়েক ঘণ্টা পরই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরের অদূরে ভেঙে পড়ে একটি বিমান। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের। সেই তালিকাতেই ছিলেন মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের পাইলট ক্যাপ্টেন সম্ভাবী পাঠক।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 January 2026 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হাই, গুড মর্নিং, ডাড্ডা' - এই ছিল শেষ বার্তা।
ক্যাপ্টেন সম্ভাবী পাঠক (Shambhavi Pathak) আর কোনওদিন কোনও বার্তা পাঠাবেন না তাঁর ঠাকুমাকে।
বুধবার ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ মোবাইলের স্ক্রিনে সেই পরিচিত শব্দগুলো ভেসে উঠেছিল। গোয়ালিয়রের বসন্ত বিহারের বাড়িতে বসে মীরা পাঠক যেমনটা প্রতিদিন করেন, তেমনই সেই মেসেজের উত্তর দিয়েছিলেন, 'গুড মর্নিং, চিনি।' তখনও তিনি জানতেন না, এই সাধারণ কথোপকথনটাই হয়ে থাকবে জীবনের সবচেয়ে ভারী স্মৃতি।
এই মেসেজের কয়েক ঘণ্টা পরই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরের অদূরে ভেঙে পড়ে একটি বিমান (Baramati Plane Crash)। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের (Ajit Pawar Death News)। সেই তালিকাতেই ছিলেন মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের পাইলট ক্যাপ্টেন সম্ভাবী পাঠক।
মীরা পাঠক এখন একাই থাকেন বসন্ত বিহারে। পরিবার চলে গেছে দিল্লিতে, কিন্তু স্মৃতিগুলি রয়ে গেছে বাড়ির প্রতিটি কোণে। বুধবার সকালে তিনি বসে ছিলেন ফোনের দিকে তাকিয়ে - চোখ দিয়ে নীরবে গড়িয়ে পড়ছিল জল। “আমি তো জানতামই না, ওটাই শেষ মেসেজ,” বলতেই কেঁপে উঠছিল গলা।
মীরা জানান, তাঁর বড় ছেলে ফোন করে জানিয়েছিলেন বিমানের দুর্ঘটনার খবর। সম্ভাবী সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “আগের রাতে ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, চিনি কোথায়? ও তো বেশির ভাগ সময় মুম্বইয়ে থাকত। খুব কম ফোন করত, মেসেজও করত না। জানি না কেন ওই দিন সকালে হঠাৎ আমাকে মনে পড়েছিল।”
সকাল ন’টা নাগাদ মীরাকে ফোন করেন সম্ভাবীর বাবা বিক্রম পাঠক। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কিছু বলেই ফোন কেটে দেন। মীরার মনে তখনই ভয় ঢুকে পড়ে। দু’ঘণ্টা পর আসে নিশ্চিত খবর - চিনি আর নেই।
কিছুদিন আগেই সম্ভাবী মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে দেখা করে গোয়ালিয়রে এসেছিলেন। দিদার সঙ্গে কাটিয়েছিলেন ঘণ্টা দু’য়েক। গত বছর দাদু মারা যাওয়ার পর টানা ১৩ দিন তাঁর পাশেই ছিলেন, কোথাও যাননি।
গোয়ালিয়রের মুরারে জন্ম সম্ভাবীর। ছোটবেলার বড় অংশ কেটেছে এখানেই। আকাশের প্রতি ভালবাসা যেন উত্তরাধিকারেই পেয়েছিলেন। দাদু শ্রীকিশন পাঠক ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার, বাবা বিক্রম পাঠক গ্রুপ ক্যাপ্টেন। কার্গিল যুদ্ধের সময় বাবার অনুপস্থিতিতে মেয়েকে নিয়ে এই বাড়িতেই চলে এসেছিলেন তাঁর মা।
গোয়ালিয়রে এয়ার ফোর্স বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু। পরে দিল্লির এয়ার ফোর্স স্কুল, মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যারোনটিক্স ও এভিয়েশন নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি। নিউজিল্যান্ডে বাণিজ্যিক পাইলট প্রশিক্ষণ, মধ্যপ্রদেশ ফ্লাইং ক্লাবে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ, ডিজিসিএ-র দেওয়া ‘ফ্রোজেন এটিপিএল’ - সব মিলিয়ে উড়ানের জন্যই গড়ে উঠেছিল জীবনটা।
বুধবারের ঘটনার পর সব স্বপ্ন, সব আশা শেষ।