পুলিশ সূত্রে খবর, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বারামতীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে শোকযাত্রার সম্পূর্ণ রুট। অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি এড়াতে সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি
শেষ আপডেট: 29 January 2026 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া। এনসিপি নেতা তথা রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের শেষযাত্রাকে (Ajit Pawar Death) ঘিরে আজ সকাল থেকেই বারামতীতে আবেগঘন পরিবেশ। গাডিমা অডিটোরিয়াম থেকে শুরু হবে তাঁর শেষ যাত্রা (Ajit Pawar Last Rites), আর ইতিমধ্যেই সেখানে দলীয় কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে গোটা এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই অজিত পাওয়ারের দেহ (Ajit Pawar Plane Crash) রাখা হয় তাঁর কাতেওয়াড়ির বাসভবনে। সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে গাডিমা অডিটোরিয়ামে। সেখান থেকেই সকাল ৯টায় শুরু হবে শেষযাত্রা। সেটি এগোবে বিদ্যা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণের দিকে, যেখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টায় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা।
গত কয়েক ঘণ্টা ধরেই বারামতীতে জমতে শুরু করেছে ভিড়। প্রিয় নেতাকে শেষবার দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। শোকস্তব্ধ পরিবেশের মধ্যেও আবেগে ফেটে পড়ছেন এনসিপি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘অজিত দাদা অমর রহে’ ও ‘অজিত দাদা পরত যা’ - এই স্লোগানে বারবার গমগম করে উঠছে এলাকা। দলের বহু কর্মীকে চোখের জল সামলাতে দেখা গেছে, কেউ কেউ আবার প্রিয় নেতার স্মৃতিচারণা করতে করতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বারামতীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে শোকযাত্রার সম্পূর্ণ রুট। অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি এড়াতে সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
শেষযাত্রায় উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও (Amit Shah)। তাঁর আগমন ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ শুধু একটি দলের নয়, গোটা মহারাষ্ট্রের রাজনীতির জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজ বারামতীতে সেই শোকই রাস্তায় নেমে এসেছে মানুষের চোখের জলে, স্লোগানে আর নীরব শ্রদ্ধায়।
বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় (Baramati Plane Crash) মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Plane Crash)। তাঁর বিমানটিতে থাকা পাঁচজনের কেউই বেঁচে নেই। বিমানবন্দর থেকে কয়েক মিনিট দূরের একটি জাতীয় সড়কে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় (Ajit Pawar Plane Crash CCTV Footage) ধরা পড়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সেই স্থানেই আছড়ে পড়ে অজিত পাওয়ারের বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।
প্রথমে দেহগুলি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে হাতঘড়ি ও পোশাকের সূত্র ধরে অজিত পাওয়ারের দেহ শনাক্ত করা হয়। বিমানটিতে থাকা অন্যদের মধ্যেও ছিলেন দুই পাইলট - সুমিত কপূর ও সম্ভাবী পাঠক।