ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এটিকেই খামেনেইর সবচেয়ে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 1 February 2026 20:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে টানাপড়েনের (Middle East tensions) আবহে শনিবার দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে (Ayatollah Khamenei)। দক্ষিণ তেহরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহোল্লা খোমেনির মাজারে তিনি শ্রদ্ধা জানাতে যান। এর ঠিক এক দিন পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিলেন খামেনেই।
তাঁর সতর্কবার্তা, ইরানে হামলা হলে আরব দুনিয়ায় “আঞ্চলিক যুদ্ধ” বেধে যাবে (Khamenei regional war warning)।
খামেনেই বলেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তা হলে এবার সেটি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে।” ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এটিকেই তাঁর সবচেয়ে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, খামেনেই আরও বলেন, “(ট্রাম্প) নিয়মিত বলছেন তিনি জাহাজ পাঠিয়েছেন। ইরানের মানুষ এসবে ভয় পাবে না, এই হুমকিতে তারা বিচলিতও হবে না।”
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেটিকে এক ধরনের অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই “বিদ্রোহের” লক্ষ্য ছিল দেশের শাসনকেন্দ্রগুলিকে আঘাত করা।
খামেনেইর এই সতর্কবার্তার আগে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য “সন্তোষজনক” চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে যদি এমন একটি চুক্তি করা যেতে পারে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, তাহলে তাদের সেটাই করা উচিত। তবে তারা তা করবে কি না জানি না। তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, গুরুত্ব দিয়েই কথা বলছে।”
ইরান বিক্ষোভ ঘিরে ট্রাম্প বনাম খামেনেই
ডিসেম্বর মাসে ইরান জুড়ে শাসকব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ও খামেনেইর মধ্যে কথার লড়াই তীব্র হয়েছে। খামেনেই-নেতৃত্বাধীন সরকারের বিক্ষোভ দমনের কড়া পদক্ষেপের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
তিনি সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দু’টি ‘রেড লাইন’ টেনেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে, অথবা আটক বিক্ষোভকারীদের গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে।
এদিকে, আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করায় সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জল্পনা আরও বেড়েছে।
বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ছ’টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ রয়েছে।
তবে আমেরিকার যে কোনও সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তেহরানের তরফে কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অনেকের মতে, ট্রাম্পের এই হুমকি আসলে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতেই কূটনৈতিক চাপ তৈরি করার কৌশল।
ইরান বিক্ষোভে কত মৃত্যু?
ডিসেম্বরে ইরান জুড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অবনতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩,১১৭। তবে মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন HRANA সম্প্রতি দাবি করেছে, তারা এখনও পর্যন্ত ৬,৭১৩ জনের মৃত্যুর প্রমাণ যাচাই করেছে।