ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে—তাও কি ঠিক করে দেবেন ট্রাম্প? ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। একই সময়ে ভারত-ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক তৎপরতায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতি নতুন করে আলোচনায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 1 February 2026 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে এবার তাও কি ঠিক করে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)? ট্রাম্পের নয়া দাবি, ইরান থেকে তেল কেনার বদলে এবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির চুক্তি করেছে ভারত। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই সেই চুক্তির ধারণাগত রূপরেখায় পৌঁছে গিয়েছি।” রবিবার সংসদে বাজেট (Budget 2026) পেশ হবে। তার আগে ট্রাম্পের এহেন দাবি যেন নতুন বিতর্কে ইন্ধন দিয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ শক্তিক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কালোত্তীর্ণ। তেল আমদানির ব্যাপারে বহুদিনের বন্ধু তেহরান। সেই অক্ষ এবার ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে কিনা, তার প্রভাবই বা কী পড়তে চলেছে তা নিয়েও নয়া উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেও নয়াদিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের মার্চে ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা—যার তালিকায় ভারতও ছিল। এর আগেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, দাবি করেছিলেন, এতে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের তহবিল জোগানো হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, জানুয়ারিতে আমেরিকা তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার (Venezuela) নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সে সময়ই সে দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) আটক করা হয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জানুয়ারিতে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপির রিফাইনারিতে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল নিয়ে পৌঁছেছে অন্তত ১৮টি। আমেরিকায় মোট তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে চলেছে, যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে, গত বছর দৈনিক গড়ে ৪ লক্ষ ব্যারেল তেল নেওয়া চিন জানুয়ারিতে একেবারেই ভেনেজুয়েলার তেল নেয়নি।
এই আবহেই শুক্রবার ভেনেজুয়েলার কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের (Delcy Rodriguez) সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দু’দেশের সম্পর্ককে “নতুন উচ্চতায়” নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জানুয়ারি ৩ তারিখে মাদুরো দম্পতির গ্রেফতারের পর এই প্রথম ভারত-ভেনেজুয়েলা শীর্ষস্তরে কথা হল।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথ সংক্রান্ত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও সহযোগিতা জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রদ্রিগেজ জানান, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খনন, পর্যটন, ওষুধ ও অটোমোবাইল শিল্পেও যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্পের তেল সংক্রান্ত এই দাবি এবং একই সময়ে ভারত-ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।