সদ্য প্রকাশিত নতুন দফার ‘এপস্টাইন ফাইলস’ (Epstein files)-এ উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump), মাইক্রোসফটের (Microsoft) সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস (Bill Gates), টেক ধনকুবের ইলন মাস্ক (Elon Musk), বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের নাম।

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন বিচার বিভাগ তিন মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার কুখ্যাত যৌন কেলেঙ্কারির (Sex Scandal) তদন্তে ফের আলোচনার কেন্দ্রে জেফ্রি এপস্টাইন (Jeffrey Epstein)। সদ্য প্রকাশিত নতুন দফার ‘এপস্টাইন ফাইলস’ (Epstein files)-এ উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump), মাইক্রোসফটের (Microsoft) সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস (Bill Gates), টেক ধনকুবের ইলন মাস্ক (Elon Musk), বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের নাম। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন বিচার বিভাগ তিন মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২,০০০ ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, এটাই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এপস্টাইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের শেষ ধাপ।
নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগের একটি এফবিআই-তালিকাও রয়েছে। যদিও সেগুলির অনেকটাই বেনামী ফোনকল ও যাচাই না হওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে। কিছু অভিযোগ তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখলেও, বেশ কয়েকটিকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প বহুবার এপস্টাইনের সঙ্গে কোনও অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০২০-র নির্বাচনের ঠিক আগে এফবিআই-এর কাছে জমা পড়া কিছু দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

নথিতে এপস্টাইন ও মাস্কের মধ্যে একাধিক ইমেল বিনিময়ের তথ্য রয়েছে। ২০১২ সালের ক্রিসমাসে এপস্টাইন মাস্ককে তাঁর ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এ যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। মাস্ক জবাব দেন, “শান্ত দ্বীপে ছুটি কাটানো এই মুহূর্তে আমার চাওয়ার ঠিক উল্টো।” পরে মাস্ক লেখেন, তিনি “পাগলের মতো কাজ করে যাচ্ছেন” এবং জানতে চান কোনও পার্টির পরিকল্পনা আছে কি না। এপস্টাইন উত্তরে জানান, দ্বীপের পরিবেশ হয়তো মাস্কের সঙ্গিনীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। মাস্ক পরে সেন্ট বার্থসে এক পানাহারের আমন্ত্রণ দিলেও, তাঁদের দেখা হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। পরে X-এ মাস্ক লিখেছিলেন, “এপস্টাইন আমাকে দ্বীপে যেতে বলেছিল, আমি স্পষ্টভাবে না করে দিয়েছি।” তবে, ২০১২ সালের এক ইমেল আদান-প্রদানে দেখা যাচ্ছে, এপস্টিন মাস্ককে জিজ্ঞেস করেছিলেন—“হেলিকপ্টারে কয়জন যাবে দ্বীপে?” মাস্কের জবাব ছিল—“সম্ভবত শুধু আমি আর তালুলা। কোনও দিন বা রাতে দ্বীপের সবচেয়ে ‘ওয়াইল্ড’ পার্টি হবে?”

নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালে লন্ডন সফরের সময় প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টাইনকে বাকিংহাম প্যালেসে ডিনারের আমন্ত্রণ জানান। ইমেলে অ্যান্ড্রু লেখেন, “বাকিংহাম প্যালেসে ডিনার করতে পারি, পুরো গোপনীয়তার ব্যবস্থা থাকবে।”
একটি খসড়া ইমেলে এপস্টাইন দাবি করেছেন, গেটসের একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এমনকী তিনি লেখেন, গেটসের “রাশিয়ান মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতি সামলাতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে বিবাহিত মহিলাদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ম্যানেজ করা”— সবেতেই তিনি নাকি যুক্ত ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের কোনও আইনি প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
টড ব্লাঞ্চ স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা ট্রাম্পকে রক্ষা করিনি। কাউকেই রক্ষা বা আড়াল করা হয়নি।” তিনি দাবি করেন, এমন কোনও গোপন নথি নেই যা ইচ্ছে করে চেপে রাখা হয়েছে। তবে আইনি কারণে কিছু নথি (যেমন আইনজীবী-গ্রাহক গোপনীয়তা) প্রকাশ করা হয়নি। নথিতে সব নারী ও নাবালিকার ছবি ঝাপসা করা হয়েছে— ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া। ম্যাক্সওয়েল এপস্টাইনের হয়ে নাবালিকা পাচারের দায়ে বর্তমানে ২০ বছরের সাজা খাটছেন।
নিউইয়র্কের প্রাক্তন অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টাইন ২০১৯ সালে জেলে আত্মহত্যা করেন, 'যৌনকর্মী' যাঁদের অনেকেই পেশাগত নয়, বরং অপহরণ করে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এপস্টাইনের বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে, তবু বছরের পর বছর ধরে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে— যার কিছু নিজেই ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়েছিলেন ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে। এপস্টাইন নেই, কিন্তু তাঁর ছায়া এখনও আমেরিকার রাজনীতি ও অভিজাত সমাজে লম্বা হয়ে পড়ে আছে।