আমেরিকার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ যৌন কেলেঙ্কারি তদন্তের রিপোর্টে ভারতীয় পরিচালকের নাম উঠে আসায় সব মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ (US Justice Department) তিন মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের নাম উঠল এপস্টাইন ফাইলসে (Epstein files)। আমেরিকার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ যৌন কেলেঙ্কারি তদন্তের রিপোর্টে ভারতীয় পরিচালকের নাম উঠে আসায় সব মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০০৯ সালে তাঁর ছবি Amelia-র একটি আফটার পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন মীরা। যে পার্টি হয়েছিল কুখ্যাত যৌন কেলেঙ্কারির নায়ক ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বাড়িতে। সদ্য প্রকাশিত ‘এপস্টাইন ফাইলস’-এর নতুন নথিতে এমনই তথ্য সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক শহরের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির মা হলেন মীরা নায়ার।
শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (US Justice Department) তিন মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এই বিপুল ডেটার মধ্যে রয়েছে ২,০০০-র বেশি ভিডিও ও প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। সবই প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত।
নথির মধ্যে উঠে এসেছে ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবরের একটি ইমেল। পাঠিয়েছিলেন হলিউড পাবলিসিস্ট পেগি সিগাল, প্রাপক স্বয়ং এপস্টাইন। পার্টি শেষ করে বাড়ি ফেরার পরই ভোররাতে পাঠানো ওই মেলেই আফটার পার্টির ছবি ধরা পড়ে। মেলে লেখা ছিল— এইমাত্র ঘিসলেনের টাউনহাউস থেকে বেরোলাম… ছবির আফটার পার্টি। বিল ক্লিনটন আর জেফ বেজোস ছিলেন… জঁ পিগোনি, পরিচালক মীরা নায়ার… ইত্যাদি।” তবে মজার বিষয়, পার্টিতে Amelia ছবির রিসেপশন নাকি খুব একটা জমেনি। সিগাল লিখেছেন, ছবির প্রতিক্রিয়া ছিল, বেশ ঠান্ডা— যদিও মহিলারা নাকি তুলনামূলক বেশি পছন্দ করেছেন।
এই ‘এপস্টাইন ফাইলস’-এ নাম রয়েছে টেসলা সিইও ইলন মাস্কেরও। ২০১২ সালের এক ইমেল আদান-প্রদানে দেখা যাচ্ছে, এপস্টিন মাস্ককে জিজ্ঞেস করেছিলেন—“হেলিকপ্টারে কয়জন যাবে দ্বীপে?” মাস্কের জবাব ছিল—“সম্ভবত শুধু আমি আর তালুলা। কোন দিন বা রাতে দ্বীপের সবচেয়ে ‘ওয়াইল্ড’ পার্টি হবে?”
মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, এবার মোট তিন মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়েছে, সঙ্গে ২,০০০ ভিডিও ও ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এই নথিগুলি প্রথম দফায় প্রকাশিত হয়নি— ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখতে ও সংবেদনশীল তথ্য বাদ দিতে সময় নেওয়া হয়েছিল। নতুন নথিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ইলন মাস্কসহ রাজনীতি, ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক জগতের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ব্লাঞ্চ বলেন, “এই প্রকাশ প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ ও বিস্তৃত, যাতে আমেরিকার মানুষ পুরো সত্য জানতে পারে।” তবে তিনি মানেন, এত কিছুর পরেও মানুষের প্রশ্ন ও সন্দেহ হয়তো থামবে না। প্রসঙ্গত, প্রাক্তন অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের জেলে আত্মহত্যা করেন যৌন পাচার মামলার বিচারাধীন অবস্থায়। তাঁর সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল পরে নাবালিকাদের যৌন নির্যাতনে সাহায্য করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।