Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহের

Budget Expectation 2026: শুধু টাকা ঢালাই যথেষ্ট নয়, সকলের দরজায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি জরুরি

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-কে (Union Budget 2026) সামনে রেখে শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকদের একাংশ স্পষ্ট করে বলছেন— শুধু শিক্ষাখাতে বরাদ্দ অর্থ (Funding) বাড়ালেই ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা (Higher Education System) ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে পারবে না। 

Budget Expectation 2026: শুধু টাকা ঢালাই যথেষ্ট নয়, সকলের দরজায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি জরুরি

শিক্ষা ক্ষেত্রে জিএসটি (GST) কমানো হোক। বর্তমানে ১৮ শতাংশ হারটা সত্যিই একটা বড় বোঝা। ছবিটিতে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 30 January 2026 14:51

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-কে (Union Budget 2026) সামনে রেখে শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকদের একাংশ স্পষ্ট করে বলছেন— শুধু শিক্ষাখাতে বরাদ্দ অর্থ (Funding) বাড়ালেই ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা (Higher Education System) ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে পারবে না। প্রয়োজন সুগভীর সংস্কার, বাস্তবমুখী পরিকল্পনা এবং গুণগত মানের উপর জোর। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা (Global Economic Uncertainty), বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের মধ্যেই কর্মসংস্থানের চাপ— সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রকে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

ফিজিক্সওয়ালার (PhysicsWallah)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক মাহেশ্বরী (Prateek Maheshwari) বলেন, বাজেট নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটাই, শিক্ষাকে (education) আরও কম খরচায় (affordable) এবং বিশ্বাসযোগ্য (accountable) করা। যা সকলে সুযোগ পাবে এবং ভরসা করবে। আমি চাই শিক্ষা ক্ষেত্রে জিএসটি (GST) কমানো হোক। বর্তমানে ১৮ শতাংশ হারটা সত্যিই একটা বড় বোঝা। এটা কমানো খুব জরুরি, যাতে ভালো মানের শিক্ষা (quality learning) সব পরিবারের নাগালে আসে।

এছাড়া আমি চাই ফলভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের (outcome-based budget allocation) দিকে জোর দেওয়া হোক। এতে ভারতের জন্য বড়সড় বদল আসবে, কারণ এতে খরচের অঙ্ক নয়, প্রভাবটাই মূল হয়ে উঠবে। শুধু পরিকাঠামোয় টাকা ঢাললেই হবে না, ফলাফলও দেখতে হবে। যেমন পড়াশোনার মান উন্নত হওয়া (learning outcomes) আর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়া (employability)। শিক্ষা বাজেট যদি সরাসরি পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে প্রতিটা টাকা (rupee) সত্যিকারের কাজে লাগবে— আমাদের তরুণদের শক্তিশালী করবে এবং উন্নত দেশ গড়ে তুলবে।

ভর্তির হার বেড়েছে, কিন্তু ভিত এখনও দুর্বল

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বা গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও (Gross Enrolment Ratio) আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এখনও সমস্যায়।

  • শিক্ষকের ঘাটতি (Faculty Shortage)

  • গবেষণার দুর্বল পরিকাঠামো (Research Infrastructure)

  • হস্টেল ও ডিজিটাল সুবিধার অভাব (Digital Facilities)

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ছাত্রসংখ্যা বাড়লেই হবে না, মানসম্মত শিক্ষা না হলে সেই ডিগ্রির বাজারমূল্যও কমে যাবে।

শুধু বাজেট নয়, দরকার কাঠামোগত বদল

শিক্ষাবিদদের বক্তব্য, বাজেটে যদি শুধুই টাকা বাড়ে, কিন্তু সিস্টেম না বদলায়, তাহলে তার সুফল দীর্ঘমেয়াদে মিলবে না। তাঁরা যে প্রয়োজনীয়তার দিকগুলিতে আলোকিত করেছেন, সেগুলি হল,

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন (University Autonomy)

  • পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ (Curriculum Reform)

  • শিল্পের সঙ্গে সংযোগ (Industry Linkage)

বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence), ডেটা সায়েন্স (Data Science), গ্রিন এনার্জি (Green Energy)—এই ক্ষেত্রগুলিতে বাস্তবমুখী কোর্স চালুর উপর জোর দেওয়া।

স্কলারশিপ ও ফেলোশিপে জোর না দিলে মধ্যবিত্ত পিছিয়ে পড়বে

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী (First-generation Learners), গ্রামীণ ছাত্রছাত্রী এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য চালু করতে হবে বিভিন্ন প্রকল্প। যেমন- 

  • স্কলারশিপ (Scholarship)

  • ফেলোশিপ (Fellowship)

  • শিক্ষাঋণ সহায়তা (Education Loan Support)

এই তিনটিতে বরাদ্দ না বাড়ালে উচ্চশিক্ষা ধীরে ধীরে আবার এলিটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

বহুবিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ

জাতীয় শিক্ষানীতির (National Education Policy) লক্ষ্য অনুযায়ী, মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশ্ববিদ্যালয় (Multidisciplinary Universities) গড়ে তোলাই এখন মূল দিশা। অর্থাৎ, একই ক্যাম্পাসে বিজ্ঞান, মানববিদ্যা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি— সব একসঙ্গে পড়ানো হবে। কিন্তু বাস্তবে এর জন্য চাই—

  • আন্তর্জাতিক মানের অধ্যাপক (Global Faculty)

  • গবেষণায় স্থায়ী তহবিল (Research Grants)

  • বিদেশি সহযোগিতা (International Collaboration)

যা এখনও অনেকটাই কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেও নীতির আওতায় আনতে হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (Private Universities) আজ উচ্চশিক্ষার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তাই তাদের জন্য কিছু সংস্কার আনতে হবে।

  • কর নীতিতে স্বচ্ছতা (Tax Clarity)

  • গবেষণায় উৎসাহ (R&D Incentives)

  • মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Regulation)

এই তিনটি বিষয় বাজেটে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা দরকার।

সব মিলিয়ে শিক্ষাবিদদের বার্তা স্পষ্ট, বাজেট ২০২৬-এ শুধু বেশি টাকা বরাদ্দ করলেই হবে না। চাই— গুণগত শিক্ষা (Quality Education), কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা (Employability Skills) এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (Long-term Vision)। তা না হলে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় (Global Competition) পিছিয়ে পড়বে, আর ডিগ্রি থাকলেও বাস্তব জীবনে তার মূল্য ক্রমশ কমতে থাকবে।


```