সংসদে ২৯ জানুয়ারি পেশ হয়েছে ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬ (Economic Survey 2026)— যাকে সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের অর্থনীতির ‘স্বাস্থ্য প্রতিবেদন’ (Health Report of the Economy) হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আর্থিক সমীক্ষাকে ভারতের ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’-এর (Reform Express) আখ্যা দিয়েছেন।
শেষ আপডেট: 30 January 2026 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রইল বাকি দুদিন। আগামী রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitharaman) বাজেট ভাষণের আগে দেশজুড়ে তুঙ্গে বাজেট-উত্তেজনা। এবার তাঁর টানা নবম বাজেট ভাষণ (Ninth Consecutive Budget Speech), এবং প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার রবিবার (Sunday) সংসদে পেশ হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)। প্রথা অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি নর্থ ব্লকের (North Block) বাজেট ছাপাখানায় (Budget Press) অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী হালুয়া অনুষ্ঠান (Halwa Ceremony)।
সংসদে ২৯ জানুয়ারি পেশ হয়েছে ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬ (Economic Survey 2026)— যাকে সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের অর্থনীতির ‘স্বাস্থ্য প্রতিবেদন’ (Health Report of the Economy) হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি (Growth Rate) পেতে পারে। এই বৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শক্তিশালী সামষ্টিক ভিত্তি (Macroeconomic Fundamentals) এবং ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রক সংস্কার (Regulatory Reforms)।
আর্থিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মূল ও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি (Core and Headline Inflation) আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে তা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছবে না বলেই মত অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের। রাজকোষ ঘাটতি (Fiscal Deficit) প্রসঙ্গে সমীক্ষা বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে বাজেট অনুমানের ৬২.৩ শতাংশে। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজকোষ ঘাটতি জিডিপির (GDP) ৪.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আর্থিক সমীক্ষাকে ভারতের ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’-এর (Reform Express) আখ্যা দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে তাঁর মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার (Global Challenges) মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং ক্রমোন্নতির পথে।
মোদী বলেন, সমীক্ষা স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে—
সামষ্টিক স্থিতিশীলতা (Macroeconomic Stability)
উদ্ভাবন ও উদ্যোগ (Innovation and Entrepreneurship)
পরিকাঠামোগত উন্নয়ন (Infrastructure Development)
এই তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
আর্থিক সমীক্ষা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সমষ্টিগত উন্নয়নের (Inclusive Development) উপর। কৃষক (Farmers), ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (MSMEs), যুব কর্মসংস্থান (Youth Employment) এবং সামাজিক কল্যাণ (Social Welfare)— এই ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, উৎপাদন ক্ষেত্র (Manufacturing), উৎপাদনশীলতা (Productivity) এবং শিল্পায়ন (Industrialisation) জোরদার করে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) লক্ষ্যপূরণের পথদিশাও তুলে ধরা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬ ভারতের অর্থনীতির একটি আশাবাদী ও বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছে। বৃদ্ধির গতি বজায় থাকলেও মুদ্রাস্ফীতি ও রাজকোষ ঘাটতির মতো সূচকগুলির উপর সতর্ক নজর রাখার বার্তা স্পষ্ট। আসন্ন বাজেট (Union Budget 2026-27) এই সমীক্ষার সুপারিশগুলিকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক মহল।