যে সময়ে (India Trade Deals) একের পর এক বিদেশি দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে এবং সরকারের উপর আস্থা প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময়েই পাকিস্তানের অর্থনীতি তলানিতে ঠেকায় (Pakistan Economy Crisis) বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

শরিফ বলেন, বর্তমানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু তার মধ্যে আমাদের বন্ধু দেশগুলির ঋণও রয়েছে। ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সময়ে (India Trade Deals) একের পর এক বিদেশি দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে এবং সরকারের উপর আস্থা প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময়েই পাকিস্তানের অর্থনীতি তলানিতে ঠেকায় (Pakistan Economy Crisis) বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য বিদেশে ঘুরে ঘুরে আর্থিক সাহায্য চাইতে হয়েছে তাঁকে এবং সেনাপ্রধান, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে। শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে (Islamabad) শীর্ষ রফতানিকারকদের (Business Meet) উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে শরিফ বলেন, পাকিস্তানের আর্থিক পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার বড় অংশই এসেছে বন্ধুদেশগুলির ঋণ থেকে।শরিফ বলেন, বর্তমানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু তার মধ্যে আমাদের বন্ধু দেশগুলির ঋণও রয়েছে। আর আপনারা নিশ্চই জানেন, যে লোক ঋণ নিতে যায়, তার মাথা সবসময় নিচুই থাকে।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, বিদেশে গিয়ে টাকা চাইতে তাঁদের চরম অপমানবোধ হয়। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আর আমি যখন পৃথিবী ঘুরে টাকা চাইতে যাই, তখন লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। ঋণ নেওয়া আত্মসম্মানের উপর বিশাল আঘাত। অনেক সময় আমরা না বলতে পারি না, তারা যা করতে বলে সেটাও মেনে নিতে হয়, বলেন তিনি।
শাহবাজের এই মন্তব্য এমন সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে আলোচনায় (IMF Talks Pakistan) নিয়ে বসেছে ইসলামাবাদ। অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে কড়া নীতি গ্রহণের পর নতুন করে আর্থিক সহায়তা চাইছে পাকিস্তান। শরিফ স্বীকার করেন, বিদেশি ঋণের উপর নির্ভরশীলতা দেশের আত্মসম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর কথায়, অন্যের সাহায্যের উপর দাঁড়িয়ে কোনও জাতি দীর্ঘদিন মর্যাদা বজায় রাখতে পারে না।
তবে একই সঙ্গে শরিফ চিনকে “সব সময়ের বন্ধু” (China Pakistan Relations) বলে উল্লেখ করেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতারকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। চিন ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলার জমা পুনর্নবীকরণ করেছে, যার মধ্যে ২০২৪-২৫ সালে ৪ বিলিয়ন ডলার আসার কথা। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে ৬০ বিলিয়ন ডলার। সৌদি আরব দিয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও ১.২ বিলিয়ন ডলারের তেল সুবিধা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দিয়েছে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। কাতার ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও এলএনজি সরবরাহের চুক্তি করেছে।
কিন্তু, বাস্তব চিত্র রয়ে গেছে ভয়াবহ। পাকিস্তানের দারিদ্রহার (Pakistan Poverty Rate) অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে। চরম দারিদ্রে রয়েছেন ১৬.৫ শতাংশ। বেকারত্বের হার ৭.১ শতাংশ, অর্থাৎ ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ কর্মহীন। সরকারি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৭৬ হাজার বিলিয়ন রুপি।