মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত তার রায়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি জরুরি অর্থনৈতিক আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের বিশ্বজুড়ে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে লিখেছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানেই শুল্ক বসানোর অধিকার নয়।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 21 February 2026 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত (US Supreme Court) তাঁর আরোপ করা পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করলেও ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে (US India Trade Deal) কোনও বদল হচ্ছে না - এ কথা স্পষ্ট জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কিছুই বদলাচ্ছে না। তারা শুল্ক দেবে, আমরা দেব না।”
মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত তার রায়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি জরুরি অর্থনৈতিক আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের বিশ্বজুড়ে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে লিখেছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানেই শুল্ক বসানোর অধিকার নয়। সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প নতুন আইনি বিধান ব্যবহার করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক (10% Tariff) ঘোষণা করেন। তবে তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “এখন চুক্তি ন্যায্য। আমরা তাদের শুল্ক দিচ্ছি না, তারা দিচ্ছে।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে 'দক্ষ ও ভদ্র নেতা' বলেও উল্লেখ করেন তিনি; যদিও অতীতে বাণিজ্যে আমেরিকার ক্ষতির অভিযোগ তোলেন।
হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক জানান, নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং অন্য কোনও আইনি ভিত্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। পাশাপাশি সব বাণিজ্য সহযোগী দেশকে বিদ্যমান চুক্তি কঠোরভাবে মানার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, দুই দেশের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি মার্চ মাসেই সই হতে পারে এবং এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে প্রথম পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। চূড়ান্ত পাঠ ঠিক করতে দুই দেশের মুখ্য আলোচকরা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিনের আলোচনা শুরু হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে আরোপিত ২৫ শতাংশ দণ্ডমূলক শুল্কও ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের উপর যে মোট শুল্কের বোঝা প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল, তা অনেকটাই হালকা হয়েছে।
গোয়েলের আশা, এই মাসেই প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। মার্চে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির ভারত সফরের সময় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।