বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

শেষ আপডেট: 21 February 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা আমদানি শুল্কের সিদ্ধান্ত (US Supreme Court tariff ruling Trump)। শুক্রবার ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানিয়ে দিল, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি আইনের অপব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা সংবিধানসিদ্ধ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপই কার্যত খারিজ হয়ে গেল (Supreme Court dismissed Donald Trump tariffs), যার প্রভাব শুধু আমেরিকার অর্থনীতিতেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে (global economy effect US tariffs)-ও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
৬-৩ রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা টানল আদালত
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া রায়ে, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস জানান, ১৯৭৭ সালের যে আইন ব্যবহার করে ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত নিম্ন আদালতের রায়ও বহাল রাখে।
বিচারপতি রবার্টস তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলেন, প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে “কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন” দেখাতে হবে। তাঁর কথায়, “এই অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদনের দিকে ইঙ্গিত করতে হবে, কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি।”
এই রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে ছিলেন ট্রাম্প-নিযুক্ত বিচারপতি নিল গরসাচ ও এমি কনি ব্যারেট-সহ তিন বিচারপতি। ভিন্নমত পোষণ করেন ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানগ।
“মেজর কোয়েশ্চনস” নীতির উল্লেখ
আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল, যে ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (International Emergency Economic Powers Act - IEEPA) প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কংগ্রেসের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ হয় এবং “মেজর কোয়েশ্চনস” নীতি লঙ্ঘিত হয়।
এই নীতি অনুযায়ী, বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন আবশ্যক। অতীতে এই নীতির ভিত্তিতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কিছু পদক্ষেপও খারিজ হয়েছিল।
আইনি লড়াই ও সংবিধানিক প্রশ্ন
এই মামলাটি দায়ের করেছিল একাধিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও ১২টি রাজ্য, যাদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাট শাসিত। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প একতরফাভাবে এই আইন ব্যবহার করে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন, যা নজিরবিহীন।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের। কিন্তু ট্রাম্প IEEPA আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রায় সমস্ত বাণিজ্য অংশীদার দেশের উপর শুল্ক চাপান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই।
ট্রাম্পের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প বরাবরই এই শুল্ককে আমেরিকার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই শুল্ক না থাকলে আমেরিকা “অরক্ষিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত” হয়ে পড়ত।
গত নভেম্বরেই তিনি বলেন, “আমাদের (আমেরিকা) শুল্ক না থাকলে বাকি বিশ্ব আমাদের নিয়ে হাসত। তারা বছরের পর বছর আমাদের বিরুদ্ধে শুল্ক ব্যবহার করেছে এবং সুযোগ নিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিশেষ করে চিন-সহ একাধিক দেশ আমেরিকার সুযোগ নিয়েছে।
বিস্তৃত প্রভাবের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।