মার্কিন সূত্রের দাবি, শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিজের প্রাসাদের শোওয়ার ঘর থেকেই মাদুরোকে তুলে আনা হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস।

মাদুরো ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 4 January 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াশিংটন–কারাকাস (Washington-Caracas) টানাপড়েনের আবহে পুরনো একটি ভিডিও সামনে আনল হোয়াইট হাউস (White House)। সেই ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro) প্রকাশ্যেই আমেরিকা ও সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, ‘ধরার সাহস থাকলে এসে ধরুন’।
হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই পুরনো মন্তব্যই নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। আমেরিকার দাবি, মাদুরো একাধিকবার সুযোগ পেয়েছিলেন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি।
মাদুরোর এই চ্যালেঞ্জ ছড়িয়ে পড়তেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। হোয়াইট হাউসের তরফে ইঙ্গিত, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ভিডিও শেয়ার করা নিছক স্মৃতিচারণ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি শক্ত বার্তা।
নিউ ইয়র্কে পৌঁছনোর পর রবিবার মাদুরোর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সামনে এসেছে। পরনে কালো জ্যাকেট, মাথায় টুপি, হাতে হাতকড়া— দুই মার্কিন আধিকারিকের মাঝখানে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট। আটক হওয়ার পর এই প্রথম বার প্রকাশ্যে তাঁকে কথা বলতে শোনা গেল। যদিও কয়েক সেকেন্ডের সেই ফুটেজে মাত্র পাঁচটি শব্দই উচ্চারণ করেছেন মাদুরো।
মার্কিন সূত্রের দাবি, শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিজের প্রাসাদের শোওয়ার ঘর থেকেই মাদুরোকে তুলে আনা হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। দু’জনকে আটক করে সরাসরি বিমানে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকার অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ব্যবহার করে মাদক পাচার ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন খনি থেকে তেল চুরি করে তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থ জোগানো হয়, আর এই সবের নেপথ্যে রয়েছেন মাদুরো নিজেই—এমনই দাবি ওয়াশিংটনের। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করে মার্কিন আদালতের মুখোমুখি করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই অভিযানের পরিকল্পনা হঠাৎ করা হয়নি। বহু দিন ধরেই তা নিয়ে প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। গত চার দিন ধরে একাধিক বার অভিযান চালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত শনিবার সফল হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজের উচ্ছ্বাসও চেপে রাখেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, পুরো অভিযানটাই ছিল যেন এক ‘টিভি শো’।
আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে এনে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যানহাটনের মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিইএ-র সদর দফতরে। পুরো পথ জুড়েই বন্দির মতো তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো ছিল।
ডিইএ দফতরে নিয়ে যাওয়ার সময়কার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)। সেই ফুটেজে মাদুরোকে শান্ত ও সংযত দেখাচ্ছে। ধীর পায়ে দুই আধিকারিকের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘গুড নাইট’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’।