হঠাৎ কেন ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকা, মাদুরোকে কেন্দ্র করে হামলার নেপথ্যে অভিবাসন, মাদক ও নিরাপত্তা, তিন কারণেই কি বাড়ল উত্তেজনা?

ট্রাম্প-মাদুরো
শেষ আপডেট: 4 January 2026 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারাকাস (Caracas) শহরের আজ ভোররাতে ঘুম ভেঙেছে বিস্ফোরণের শব্দে আর নীচ দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের গর্জনে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফ্লোরিডা (Florida) থেকে এল চাঞ্চল্যকর দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানালেন, ভেনেজুয়েলাতে (Venezuela) ‘বড়সড় হামলা’ চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) আটক করেছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের দাবি, যৌথ অভিযানে মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাহায্যে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) পোস্ট করা ওই ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, 'বহু মাস ধরে চলা চাপের চূড়ান্ত পরিণতি। ওয়াশিংটন বহুদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বৈধতা মানতে নারাজ ছিল। এই অভিযান মাদক, অভিবাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তা, এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখেই।'
কেন হঠাৎ এই হামলা?
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি তিনটি।
প্রথমত, অভিবাসন (Migration)। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে ঢুকছেন। রিপোর্ট বলছে, ২০১৩ সালের পর থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ ভেনেজুয়েলাবাসী অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক দমননীতির জেরে দেশ ছেড়েছেন। প্রমাণ না দেখালেও ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মাদুরো নাকি জেল ও মানসিক হাসপাতাল ‘খালি করে’ বন্দিদের আমেরিকায় পাঠিয়েছেন। যদিও কারাকাস এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে।
দ্বিতীয় কারণ মাদক (Drugs)। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা কোকেন পাচারের বড় ট্রানজিট রুট এবং আমেরিকার ফেন্টানিল সংকটের জন্যও দায়ী। এই সূত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রেন দে আরাগুয়া (Tren de Aragua) এবং কার্টেল দে লোস সোলেস (Cartel de los Soles)—এই দুই অপরাধচক্রকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন (Foreign Terrorist Organisation) ঘোষণা করেছে।
তৃতীয়ত ট্রাম্পের অভিযোগ, দ্বিতীয় কার্টেলের মাথায় স্বয়ং মাদুরো রয়েছেন।
কারাকাসের মাটিতে কী ঘটেছে?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর আকাশে যুদ্ধবিমান দেখা যায় হঠাৎ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (Associated Press) যাচাই করা ভিডিওতে শহরের আকাশে ট্রেসার ফায়ার ও ধোঁয়া দেখা যায়। ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, আমেরিকা অসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ‘বাহ্যিক অস্থিরতা’ (External Disturbance) ঘোষণা করে সমর্থকদের রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছে।
অনেকেই বলছেন, এই অভিযান হঠাৎ করে হওয়া নয়। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ চাপ। ক্যারিবিয়ান (Caribbean) অঞ্চলে মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তি বাড়ানো হয়েছিল, যার মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড (USS Gerald R Ford) বিমানবাহী জাহাজও রয়েছে। তেল অবরোধের অংশ হিসেবে সমুদ্রে দুটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করা হয়। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, মাদক পাচারের অভিযোগে ছোট নৌকায় চালানো হামলায় ১০০-র বেশি মানুষ মারা যায় সম্প্রতি এবং একটি ডকিং এলাকা ধ্বংস করে তারা। যা এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার মাটিতে প্রথম প্রকাশ্য হামলা।
মাদুরো অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমেরিকার নজর আসলে ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে। আর তাই সরকার ফেলার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
হামলার কয়েক দিন আগেই মাদক ও অভিবাসন নিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিল কারাকাস, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ঘটনায় নতুন করে উত্তাপ ছড়াল, তা বলাই বাহুল্য।