এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হল নতুন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ ভিসা (Trump Gold Card Visa) প্রোগ্রাম চালু করা। লক্ষ্য—বিশ্বজুড়ে সেরা মেধাবী, শীর্ষ বিনিয়োগকারী এবং ধনকুবেরদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেনে আনা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন ও ভিসা-সংক্রান্ত নীতিগত ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হল নতুন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ ভিসা (Trump Gold Card Visa) প্রোগ্রাম চালু করা। লক্ষ্য—বিশ্বজুড়ে সেরা মেধাবী, শীর্ষ বিনিয়োগকারী এবং ধনকুবেরদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেনে আনা।
গোল্ড কার্ড কী এবং কাদের জন্য(America Gold Card Visa)?
গোল্ড কার্ড মূলত একটি প্রিমিয়াম ইমিগ্রেশন ভিসা। এর মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই মার্কিন রেসিডেন্সি পাওয়া সম্ভব। যেখানে প্রচলিত গ্রিন কার্ড পেতে দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়, সেখানে গোল্ড কার্ড সেই পথকে অনেকটা সরল করে দেবে।
যোগ্য আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে “উল্লেখযোগ্য অবদান” রাখার প্রমাণ দিতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৯ কোটি টাকা “উপহার” হিসেবে মার্কিন প্রশাসনকে দিতে হবে। মূলত বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, প্রভাবশালী গ্লোবাল ব্যক্তিত্ব বা এমন কেউ যিনি মার্কিন অর্থনীতি ও সমাজে পরিমাপযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম—তাঁদের জন্যই এই কার্ড।
কর্পোরেট গোল্ড কার্ড বনাম প্লাটিনাম কার্ড
ট্রাম্প প্রশাসন শুধু ব্যক্তিদের জন্য নয়, কোম্পানির জন্যও কর্পোরেট গোল্ড কার্ড চালু করেছে। এর জন্য প্রয়োজন ২ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন। এর মাধ্যমে কোনও সংস্থা তাদের নির্বাচিত কর্মীদের মার্কিন রেসিডেন্সি দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এছাড়া শীঘ্রই আসছে ট্রাম্প প্লাটিনাম কার্ড। এর জন্য দিতে হবে ৫ মিলিয়ন ডলার। সুবিধা—প্রতিবছর ২৭০ দিন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা যাবে, তবুও বিশ্বের অন্য কোথাও আয় করা অর্থের উপর মার্কিন ট্যাক্স দিতে হবে না। আবার ভিসার ঝক্কিও পোহাতে হবে না।
আবেদন প্রক্রিয়া কেমন?
গোল্ড কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে একটি নন-রিফান্ডেবল প্রসেসিং ফি জমা দিতে হবে। এরপর আবেদনকারীর যাবতীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখবে USCIS (US Citizenship and Immigration Services)। থাকবে বিস্তৃত ব্যাকগ্রাউন্ড চেক। সবুজ সংকেত পেলেই আবেদনকারীকে নির্ধারিত অনুদান জমা দিতে হবে। তারপরেই মিলবে মার্কিন রেসিডেন্সির অনুমোদন।
কেন এই নতুন পদক্ষেপ?
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, এই প্রকল্প মূলত “অসাধারণ মানুষদের জন্য, যারা সাফল্যের শীর্ষে” রয়েছেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শীর্ষ বিনিয়োগ আসবে, তেমনি বিশ্বমানের মেধাবীরাও মার্কিন অর্থনীতি ও গবেষণা পরিকাঠামোতে নতুন গতি আনবেন।
গোল্ড কার্ড ও কর্পোরেট গোল্ড কার্ড ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েথে। আর প্লাটিনাম কার্ড শিগগিরই চালু হবে। এর ফলে প্রচলিত গ্রিন কার্ডের বাইরে মার্কিন রেসিডেন্সি পাওয়ার নতুন, দ্রুত এবং প্রিমিয়াম রাস্তা খুলে গেল।
ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ অভিবাসন নীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় খুলে দিল মার্কিন প্রশাসনের দাবি। তবে সমালোচকরা ইতিমধ্যেই বলছেন—এতে সাধারণ দক্ষ শ্রমিক নয়, বরং কেবল ধনীদের জন্য বিশেষ রাস্তা তৈরি হল। এখন দেখার বিষয়, আমেরিকার সমাজ ও অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী দাঁড়ায়।