Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ট্রাম্পের নতুন ভিসা নীতি: কেন ভারতীয়দের জন্য দুঃসংবাদ, ঢাকের দায়ে মনসা বিকোনোর জোগাড়

ব্যক্তিগতভাবে এ খরচ ভয়ঙ্কর। উদাহরণস্বরূপ, একজন মাঝারি স্তরের ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার যদি বছরে ১.২ লক্ষ ডলার আয় করেন, তবে শুধুমাত্র ভিসা ফি-তেই তাঁর উপার্জনের ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে যাবে। ফলে উচ্চ বেতনের কিছু চাকরি ছাড়া বাকিদের জন্য মার্কিন অভিবাসন কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।

ট্রাম্পের নতুন ভিসা নীতি: কেন ভারতীয়দের জন্য দুঃসংবাদ, ঢাকের দায়ে মনসা বিকোনোর জোগাড়

ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 20 September 2025 10:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) শুক্রবার এক মাইলফলক আদেশে সই করেছেন। যার ফলে এ বছর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ -ওয়ানবি (H-1B Visa Fee) ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রতি আবেদনকারীর ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ফি জমা দিতে হবে ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটাতে হবে আবেদনকারী ও তাদের নিয়োগকর্তাদের।

হোয়াইট হাউসের দাবি, এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন মার্কিন চাকরির বাজার সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে কেবলমাত্র সবচেয়ে দক্ষ বিদেশি কর্মীরাই তাদের দেশে প্রবেশ করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই নীতি সর্বাধিক ধাক্কা দেবে ভারতীয়দের ওপর, আবার এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকারই উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।

কারা পড়বেন সবচেয়ে বেশি চাপে?
H-1B ভিসায় ভারতীয়দের আধিপত্য সুপরিচিত। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মোট অনুমোদিত H-1B ভিসার প্রায় ৭১–৭৩ শতাংশই ভারতীয়দের হাতে যায়, যেখানে চীনের অংশ মাত্র ১১–১২ শতাংশ। ২০২৩ অর্থবর্ষে ভারতীয়রা পেয়েছিল প্রায় ১.৯১ লক্ষ H-1B ভিসা। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২.০৭ লক্ষে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কয়েক লক্ষ ভারতীয় পেশাদার।

একটি হিসাব বলছে, যদি অন্তত ৬০,০০০ ভারতীয় এই নতুন ফি-র আওতায় পড়েন, তবে বার্ষিক আর্থিক বোঝা দাঁড়াবে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৫৩,০০০ কোটি টাকা। আর যদি সব আবেদনকারীকেই ফি দিতে হয়, তবে ভারতের বার্ষিক খরচ পৌঁছতে পারে ১.৮ লক্ষ কোটি টাকায়।

ব্যক্তিগতভাবে এ খরচ ভয়ঙ্কর। উদাহরণস্বরূপ, একজন মাঝারি স্তরের ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার যদি বছরে ১.২ লক্ষ ডলার আয় করেন, তবে শুধুমাত্র ভিসা ফি-তেই তাঁর উপার্জনের ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে যাবে। ফলে উচ্চ বেতনের কিছু চাকরি ছাড়া বাকিদের জন্য মার্কিন অভিবাসন কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।

এই নতুন নীতি কেবল ভারতীয়দের নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু শিল্পকেও বিপাকে ফেলবে বলে অনেকের মত। ভারতীয় আইটি কোম্পানি যেমন ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রো, এইচসিএল, কগনিজান্ট— এতদিন হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ারকে মার্কিন ক্লায়েন্টদের জন্য অনসাইট পাঠাত। ১ লক্ষ ডলার ফি তাদের সেই ব্যবসায়িক মডেলকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

আমেরিকান বিগ টেক কোম্পানি যেমন অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট— তারাও H-1B-র উপর নির্ভরশীল। ২০২৫-এর প্রথমার্ধেই অ্যামাজন ১২,০০০-এর বেশি H-1B অনুমোদন পেয়েছে। এখন প্রতিটি কর্মীর জন্য বাড়তি ১ লক্ষ ডলার খরচ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

ব্যাঙ্ক ও টেলিকম খাত যেমন সিটিগ্রুপ, ক্যাপিটাল ওয়ান, ভেরাইজন, এটিঅ্যান্ডটি— এরা সাম্প্রতিক সময়ে H-1B কর্মীর অন্যতম বড় নিয়োগকর্তা। দক্ষ ম্যানপাওয়ার পেতে গিয়ে এখন তারাও বিপদে পড়বে।

স্টার্টআপ ও গবেষণাগারগুলির অবস্থা আরও করুণ। সীমিত বাজেটে কাজ চালানো এসব সংস্থার পক্ষে এত বিশাল অঙ্কের ফি দেওয়া কার্যত অসম্ভব। এতে উদ্ভাবনের শিকড়ই নড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবেও টেকসই নয়। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ অ্যারন রাইকলিন-মেলনিক বলেছেন, কংগ্রেস সরকারকে শুধু আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ তুলতে ফি ধার্য করার অনুমতি দিয়েছে। ১ লক্ষ ডলার ফি সেই সীমার বাইরে, ফলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে এই নীতি টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

হোয়াইট হাউস বলছে, “আমেরিকান চাকরি রক্ষার জন্য” এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, H-1B ভিসা বহুদিন ধরে “অপব্যবহৃত” একটি প্রোগ্রাম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে বলেছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলিকে এখন বিদেশি প্রতিভার উপর নির্ভর না করে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সরাসরি বলেছেন, “বিদেশিদের সস্তায় এনে কাজ করানোর দিন শেষ। এখন কোম্পানিগুলিকে কর্মীকে বেতন দেওয়ার আগে সরকারকে ১ লক্ষ ডলার দিতে হবে।”

H-1B ভিসায় এই কঠোরতার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আরও দুটি পদক্ষেপ নিয়েছে—“গোল্ড কার্ড” ভিসা স্কিম: যেখানে ধনী বিনিয়োগকারীরা ৫০ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করলে স্থায়ী আবাসিক হওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, দক্ষ কর্মী ও ছাত্রদের প্রবেশ কঠিন করে ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য পথ সহজ করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ৮৫,০০০ H-1B ভিসা ইস্যু করে, যার মধ্যে ৬৫,০০০ সাধারণ ও ২০,০০০ উন্নত ডিগ্রিধারীদের জন্য। নতুন ফি-র ফলে ছোট কোম্পানি ও সদ্য স্নাতকদের আবেদন করার সম্ভাবনা কমে যাবে।

যদি প্রতিবার ভিসা রিনিউ করতে একই ফি ধার্য হয়, তবে একজন কর্মীর জন্য তিন বছরে খরচ দাঁড়াবে ৩ লক্ষ ডলার পর্যন্ত। এতে বহু ভারতীয়কে দেশে ফিরে আসতে হতে পারে, আবার যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন তাদের জন্যও গ্রিন কার্ডের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ভারতীয়দের জন্য এই নীতি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকার শিল্প, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতও। একদিকে রাজস্ব আয় বাড়লেও অন্যদিকে প্রতিভার প্রবাহ আটকে গেলে উদ্ভাবনী শক্তি ক্ষয় হবে— এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মেনলো ভেঞ্চার্সের পার্টনার ডিডি দাস সতর্ক করেছেন, “এভাবে ফি চাপিয়ে দিলে সেরা বৈশ্বিক প্রতিভারা আমেরিকা এড়িয়ে যাবে।” একইসঙ্গে ই-মার্কেটার বিশ্লেষক জেরেমি গোল্ডম্যান বলেছেন, “এটা আসলে আমেরিকার উদ্ভাবনী শক্তিকেই কর আরোপের মতো।”

সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বল্পমেয়াদে মার্কিন কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্তে যেমন ভারতীয়দের সম্ভাবনা সংকুচিত হবে, তেমনই আমেরিকার প্রযুক্তি দুনিয়াও হারাবে তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।


```