বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন দুঃস্বপ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে, আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির ওপরও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 07:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা বিদেশিদের জন্য (Troubles for Indians) এল আরও এক নতুন বাধা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump, ) ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে যে কোনও কোম্পানিকে একজন বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসায় স্পনসর করতে বছরে দিতে হবে ১ লাখ মার্কিন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা (₹90 lakhs for H-1B visa)!
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই সিদ্ধান্তে মার্কিন কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত হবে এবং কেবলমাত্র উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরাই আমেরিকায় কাজের সুযোগ পাবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেশকে সেরা কর্মী চাই। এই প্রোক্লেমেশন নিশ্চিত করবে, আমেরিকা এখন থেকে কেবল ভালো কর্মীই পাবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নয়া সিদ্ধান্তে চাপে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলি। কারণ, H-1B ভিসার ক্ষেত্রে বরাবরই সবচেয়ে বড় অংশীদার ভারত। শুধু গত বছরেই মোট ভিসাধারীদের ৭১ শতাংশ ছিলেন ভারতীয়রা। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা-সহ একাধিক মার্কিন টেক জায়ান্টের হাজার হাজার ভারতীয় কর্মী রয়েছেন এই ভিসায়। ফলে নতুন ফি কাঠামোয় সবচেয়ে বড় ধাক্কা ভারতীয়দেরই লাগবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
শেয়ার বাজারে তার ছাপও পড়েছে। মার্কিন তালিকাভুক্ত আইটি সংস্থা কগনিজ্যান্টের শেয়ার ৫% নামল। ইনফোসিস ও উইপ্রোর শেয়ারও ২-৫% কমেছে।
কেবল ভিসাই নয়, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় প্রশ্ন বেড়ে হবে ১২৮টি। আবেদনকারীদের অন্তত ২০টির মধ্যে ১২টি প্রশ্নের উত্তর সঠিক দিতে হবে। পাশাপাশি, USCIS বাড়াচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক—‘নৈতিক চরিত্র’ ও স্থানীয় সাক্ষাৎকার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন দুঃস্বপ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে, আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির ওপরও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
হঠাৎ এত কড়াকড়ির নেপথ্যে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য, মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির দরজা খুলে দেওয়া—এমনটাই মত ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলের।