জুনের পর এটাই দুই রাষ্ট্রনেতার প্রথম ফোনালাপ, যা অক্টোবরের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় এপেক সম্মেলনে সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 19 September 2025 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাণিজ্য ও মার্কিন বাজারে টিকটকের (Tiktok) ভবিষ্যৎ ঘিরে জল্পনা বহাল। এরই মধ্যে শুক্রবার ফোনে কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। জুনের পর এটাই দুই রাষ্ট্রনেতার প্রথম ফোনালাপ, যা অক্টোবরের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় এপেক (APEC) সম্মেলনে সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, তাঁদের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল টিকটক। মার্কিন কংগ্রেস (US Congress) গত বছর আইন করে জানিয়েছিল, ২০২৫-এর জানুয়ারির মধ্যে টিকটকের মার্কিন ব্যবসা বিক্রি না হলে অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে বারবার এর সময়সীমা বাড়িয়েছিলন ট্রাম্প। বর্তমানে এটির ডেডলাইন ডিসেম্বর। ট্রাম্প নিজে বলেছেন, “টিকটকের বিরাট মূল্য আছে, আর সেই মূল্য আসলে আমেরিকার হাতেই রয়েছে, কারণ আমাদের অনুমোদন ছাড়া কিছুই হবে না।” এর আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল, টিকটকের দ্বারা আমেরিকানদের ব্যক্তিগত নথি ছড়িয়ে পড়ছে।
ফোনালাপে বাণিজ্যিক টানাপড়েনও বড় ইস্যু ছিল। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প শত শত কোটি ডলারের চিনা আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছেন, যা প্রায় এক শতাব্দীতে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে বেজিংও। তবে মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক এই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রই নিরপেক্ষ একটি জায়গায় আসতে পারবে।
এর আগে সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল যে, টিকটকের মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তির অংশ হিসেবে যদি চিন শুল্ক কমানো এবং প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি না ছাড়ে, তাহলে জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ করা হবে। যদিও গত মাসে হোয়াইট হাউস টিকটকে একটি অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট চালু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও মন্টেজ দিয়ে এই নতুন অ্যাকাউন্টটি চালু হয়।
যদিও শুল্ক ইস্যু নিয়ে দুই দেশ কতটা কাছাকাছি আসতে পারবে, সেটা আলোচ্য বিষয়। সম্প্রতি রাশিয়া (Russia) থেকে তেল কিনছে বলে চিনের (China) উপর ন্যাটো জোটকে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তার পাল্টা জবাবে চিন জানিয়েছিল, যুদ্ধ দিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। বরং শান্তি আলোচনাই একমাত্র পথ। আমেরিকা এবার কী পন্থা নেয়, সেটাই দেখার।