শনিবার আমেরিকায় আনার পর থেকে ব্রুকলিনের জেলে বন্দি ছিলেন মাদুরো দম্পতি। সোমবার ভোরে কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের ম্যানহাটনের আদালতে আনা হয়। জেল থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে, তারপর সাঁজোয়া গাড়িতে করে আদালত চত্বরে পৌঁছন মাদুরো। আদালতের বাইরে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও সমর্থনে দু’পক্ষের ছোট ছোট জমায়েতও চোখে পড়ে।

বন্দি নিকোলাস মাদুরো
শেষ আপডেট: 5 January 2026 23:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন আদালতের (US Court) কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট (Venezuela) বলেই দাবি করলেন নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro)। নিউইয়র্কের ফেডারাল আদালতে সোমবার হাজির হয়ে তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ। আমাকে অপহরণ (Kidnap) করা হয়েছে। আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।” বিচারক তাঁর বক্তব্য মাঝপথে থামিয়ে দিলেও, পরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের সময় সব অভিযোগ অস্বীকার করেন মাদুরো।
মধ্যরাতে চালানো এক নাটকীয় সামরিক অভিযানে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-সহ মাদুরোকে গ্রেফতারের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল তাঁকে। নীল রঙের জেলের পোশাকে, স্প্যানিশ অনুবাদ শোনার জন্য হেডফোন পরে আদালতে তোলা হয় মাদুরোকে। তাঁর স্ত্রীও একই সঙ্গে কাঠগড়ায় হাজির হন।
শনিবার আমেরিকায় (USA) আনার পর থেকে ব্রুকলিনের জেলে বন্দি ছিলেন মাদুরো দম্পতি (Maduro Couple)। সোমবার ভোরে কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের ম্যানহাটনের আদালতে আনা হয়। জেল থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে, তারপর সাঁজোয়া গাড়িতে করে আদালত চত্বরে পৌঁছন মাদুরো। আদালতের বাইরে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও সমর্থনে দু’পক্ষের ছোট ছোট জমায়েতও চোখে পড়ে।
এই মামলা আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এটি কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের (US Govt) এত বড় ফৌজদারি মামলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল এবং এর ফলে ভেনেজুয়েলায় ‘নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তবে আইনি লড়াই সহজ নয়। মাদুরোর আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই তাঁর গ্রেফতারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, সার্বভৌম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাদুরোর বিচার করা যায় না। যদিও আমেরিকা মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না - বিশেষ করে বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও পরে কিছুটা সংযত সুরে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দেন। তাঁর দাবি, মাদুরোকে অবিলম্বে দেশে ফেরানো হোক।
এদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের দিকেই আমেরিকার নজর। যদিও সোমবার তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সহজ নয়।
২৫ পাতার চার্জশিটে মাদুরো ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার টন কোকেন আমেরিকায় পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদক সংক্রান্ত দেনা মেটাতে অপহরণ, মারধর এমনকী হত্যার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
যদিও একটি মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে কুখ্যাত 'Tren de Aragua' গ্যাংয়ের সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি। তবু এই মামলাকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকা ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও তীব্র উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে বলেই মত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।
এই মামলার রায় শুধু মাদুরোর ভবিষ্যৎ নয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক মানচিত্রও নতুন করে আঁকতে পারে - সেই দিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।