মার্কিন সেনার অভিযানে গ্রেফতারির কয়েক দিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজির হলেন ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

নিকোলাস মাদুরো
শেষ আপডেট: 5 January 2026 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন সেনার অভিযানে গ্রেফতারির কয়েক দিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজির হলেন ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro)। সোমবার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে (Celia Flores) সঙ্গে নিয়ে প্রথম বার আদালতে দেখা গেল তাঁকে। দু’জনের বিরুদ্ধেই মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ এনেছে আমেরিকা (US)।
৬৩ বছরের মাদুরো ও ৬৯ বছরের সিলিয়া ফ্লোরেসকে গত শনিবার কারাকাসে এক নাটকীয় সামরিক অভিযানে পাকড়াও করে মার্কিন বাহিনী। হেলিকপ্টার থেকে নামা কমান্ডো, যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর সহায়তায় চালানো সেই অভিযানের পর দু’জনকে প্রথমে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে এনে শনিবার রাতেই ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় তাঁদের।
এই কারাগারটি ইতিমধ্যেই অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে বিতর্কিত। অতীতে এই জেলেই ছিলেন জেফ্রি এপস্টিন মামলার অভিযুক্ত ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল, র্যাপ তারকা শন ‘ডিডি’ কম্বস থেকে শুরু করে হন্ডুরাসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। বর্তমানে সেখানে বিচারাধীন রয়েছেন ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপের এক কর্তা হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত লুইজি ম্যাঙ্গিওনেও।
রবিবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে। যদিও মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন, মাদুরো অপসারিত হওয়ার পরে সে দেশে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ‘পাকামি’ ছাড়া কিছুই নয়।
আদালতে মাদুরোর আইনজীবীরা তাঁর গ্রেফতারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে ইঙ্গিত। তাঁদের যুক্তি, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাদুরো আন্তর্জাতিক আইনে দায়মুক্তি পান। যদিও আমেরিকা মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মান্যতা দেয় না, বিশেষত ২০২৪ সালের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পর থেকে।
এই প্রসঙ্গে উঠে আসছে ১৯৯০ সালের স্মৃতি। তখন মার্কিন বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হওয়া পানামার শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগাও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছিলেন, কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়।
এ দিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোকে ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন। যদিও একই সঙ্গে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ‘সহযোগিতা’ ও ‘সম্মানজনক সম্পর্ক’-এর বার্তাও দিয়েছেন।
মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রকাশিত ২৫ পাতার অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা মাদক চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ কোকেন আমেরিকায় পাচারে সাহায্য করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদক সংক্রান্ত টাকা আদায়ের জন্য অপহরণ, মারধর এমনকি খুনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কারাকাসে এক স্থানীয় মাদক সম্রাটকে হত্যার ঘটনাও রয়েছে।
মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ। ২০০৭ সালে তিনি কয়েক লক্ষ ডলার ঘুষ নিয়ে এক ‘বড় মাপের মাদক পাচারকারী’র সঙ্গে ভেনেজুয়েলার জাতীয় মাদকবিরোধী দফতরের প্রধানের বৈঠক করিয়ে দেন বলে অভিযোগ। সেই ঘুষের একটি অংশ তাঁর কাছেও পৌঁছেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
দীর্ঘ দিন ধরেই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায়। ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের লোভেই আমেরিকার এই আগ্রাসন— গ্রেফতারির আগে এমনই দাবি করেছিলেন মাদুরো ও তাঁর অনুগামীরা। এখন সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে নিউ ইয়র্কের আদালতেই।