এর সঙ্গে তিনি স্পষ্টত হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। বলেছেন, ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েন হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’।

ভ্লাদিমির পুতিন এবং জেলেনস্কি
শেষ আপডেট: 5 September 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে (Russia-Ukarine War) নতুন মোড়। শান্তি আলোচনায় (Peace Talk) বসতে রাজি হলেন ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)! সাম্প্রতিক তাঁর এই মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, দুই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার এটাই পথ হতে পারে।
ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুত রাশিয়া। মস্কো ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেবে বলেও জানিয়েছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার এক বক্তৃতায় পুতিন আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্যপদ পাওয়ার আইনি অধিকার ইউক্রেনের আছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) সম্প্রতি বলেছিলেন, ২৬টি দেশ যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি দিতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে স্থল, সমুদ্র এবং আকাশে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি থাকবে। এর এক দিন পরেই পুতিনের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে এর সঙ্গে তিনি স্পষ্টত হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। বলেছেন, ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েন হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। তাঁর সাফ কথা, যদি কোনও পশ্চিমী দেশের সেনা ইউক্রেনে মোতায়েন করা হয়, তবে তা মস্কোর সেনাবাহিনীর জন্য লক্ষ্যবস্তু হবে।
পুতিন একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পর ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের ধারণাকেও নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য যে কোনও চুক্তি মেনে চলবে মস্কো। তাঁর কথায়, রাশিয়া এবং ইউক্রেন, উভয় দেশের জন্যই নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই জানা গেছিল, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Zelenskyy) সঙ্গে বৈঠকে রাজি হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। দু’সপ্তাহের মধ্যেই এই বৈঠক হতে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মের্ৎস-সহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা। বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্প সরাসরি পুতিনকে ফোন করে এই সাক্ষাতের সম্ভাব্য দিন ঠিক করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করাই লক্ষ্য।
এদিকে ইউরোপীয় নেতাদের ফোনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে বড় ভূমিকা নিতে হবে ভারতকে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন-এর সঙ্গে যৌথভাবে টেলিফোনে কথা বলেন এই নিয়ে। এই আলোচনায় ভারত–ইইউ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও মতবিনিময় হয়।