ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক (Tariffs) আরোপই বেআইনি। তবে আদালতে দাখিল করা নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি— এই শুল্ক আরোপ আসলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার কৌশলেরই অংশ।
.jpeg.webp)
ট্রাম্প ও মোদী
শেষ আপডেট: 4 September 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কিত পদক্ষেপে ফের শিরোনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসন এবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গিয়েছে এক ফেডারেল আপিল আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ জানাতে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক (Tariffs) আরোপই বেআইনি। তবে আদালতে দাখিল করা নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি— এই শুল্ক আরোপ আসলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার কৌশলেরই অংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত রাশিয়ার জ্বালানি কিনছে। তার জবাবে প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন। এর লক্ষ্য ইউক্রেনের যুদ্ধ থামানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা।”
গত ২৭ অগস্ট ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর দ্বিগুণ শুল্ক চাপিয়েছে যার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। এর অর্ধেক সরাসরি ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জবাবে, আর বাকি অর্ধেক ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অঙ্গ, যার লক্ষ্য বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।
ট্রাম্প শিবিরের দাবি, এই শুল্কে আমেরিকার অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া কাগজপত্রে লেখা হয়েছে, “শুল্ক ছাড়া আমেরিকা দরিদ্র দেশ, শুল্কে আমেরিকা ধনী দেশ।” এমনকি ট্রাম্পের উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে “এক বছর আগে আমেরিকা মৃত দেশ ছিল। এখন বিভিন্ন দেশ আমাদের শোষণ বন্ধ করে কোটি কোটি ডলার দিচ্ছে। ফলে আমেরিকা আবার শক্তিশালী, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল এবং সম্মানজনক অবস্থানে ফিরে এসেছে।”
সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালতের ৭-৪ রায়ে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প আইইইপিএ আইনকে অতিক্রম করে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক বাতিল না করে, অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “আদালত ভুল বলেছে। শুল্ক তুলে দেওয়া উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জিতবে।” তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই চালাবেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প International Emergency Economic Powers Act (IEEPA)-এর আওতায় তথাকথিত “পারস্পরিক শুল্ক” চালু করেছিলেন। তবে আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ওই আইনে প্রেসিডেন্ট জরুরি পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নিতে পারেন ঠিকই, কিন্তু সরাসরি শুল্ক, কর বা শুল্কসদৃশ অর্থ আরোপ করার ক্ষমতা তাঁর নেই।
এদিকে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, “শুল্ক বাতিল হলে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে এই শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপে ফেলেছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার রায় শুধু ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতি ও দিল্লির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ককেও বড়সড় প্রভাবিত করবে।